মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২৪ মাঘ ১৪২৯

৭ মার্চের ভাষণ দেশকে ভালোবাসার শক্তি যোগায়: প্রধানমন্ত্রী

এসবিনিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আলাদা শক্তি যোগায় দেশকে ভালোবাসার, দেশের জন্য কাজ করার। এ ভাষণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু স্বাধীনতা নয়, ভবিষ্যতের নির্দেশনা দিয়েছেলেন।
শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ওপর আয়োজিত সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এ সেমিনারের আয়োজন করে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এর স্বাধীনতা না সংগ্রাম কোনটি আগে বলবে কোনটি পরে বলবে এ নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যা শুনলে হাসি পায়।
‘‘তবে এটা সত্যি যে ৭ মার্চের আগে অনেকে অনেক কষ্ট করেছেন। আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবী তারা পয়েন্ট লিখে নিয়ে আসছেন; অনেকে চিন্তাবিদ তারাও প্রস্তুতির কাজ করে যাচ্ছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা আসছেনৃ, বিভিন্ন দাবি দাওয়ার চিরকুট তুলে দিচ্ছেন। প্রফেসর-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সবাই বক্তব্যের জন্য একটি খসড়া তৈরি করছিলেন। অনেক ছাত্র নেতার প্রচুর পরিশ্রম করেছেন।
তবে শেষ কথা বলেছিলেন মা। মা বলেছিলেন তুমি এ মানুষগুলোর জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছো, তুমি সবচেয়ে ভালো জানো এদেশের মানুষ কী চায়, তুমিই ভালো জানো কী বলতে হবে। তোমার যা মনে আসবে তাই তুমি বলবে।’’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ দফা দাবির কারণে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আমি অনেক কিছুর নীরব সাক্ষী।
তিনি বলেন: বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের হাড়ে হাড়ে চিনতেন। ৭০ এর নির্বাচনে দু’টি সিট যে হারাবেন তা তিনি আগেই জানতেন। ইয়াহিয়া খান যেসব শর্তে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন তা মেনে নিয়েই তিনি নির্বাচনে গিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে শুধু বাংলাদেশের মানুষ অধিকারের কথাই বলেননি, সেখানে বিশ্বের মেহনতি মানুষের জন্য কথা বলেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দু’টি যদি পড়েন তাহলে দেখবেন তিনি সারা জীবন কী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তার পাশে সারা জীবন ছায়ার মত থেকেছেন আমার মা। আমার মা সাংসারিক কোনো ব্যাপারে তাকে কখনো বিরক্ত করেননি। ৭ মার্চ থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি পাশে থেকেছেন। তিনি রাজনীতি করেছেন আর আমার মা আমাদের পরিবারের পাশাপাশি দলকে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা সুযোগ পেয়েছি মুক্তিযুদ্ধের গান কবিতা শোনার, কিন্তু ৭৫’র পরে সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয়। আমরা আবার সুযোগ পেয়েছি এই প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে দেয়ার।

Related posts