মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ | ৩০ চৈত্র ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

হোয়াইট হাউজ দখলের লড়াই আজ

এসবিনিউজ ডেস্ক: আগামী চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউজ কার দখলে যাচ্ছে তা নির্ধারণ হবে আজ। করোনা মহামারীর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সবকিছু ছাপিয়ে নির্বাচন নিয়ে উচ্ছাসিত মার্কিনীরা। যুক্তরাষ্টে সর্বত্রই বইছে নির্বাচনের উৎসবের আমেজ। তবে মার্কিনীদের এখন একটাই প্রশ্ন – কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন? নির্বাচনে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ভোটার প্রায় ৭০ শতাংশ। আর কৃষ্ণাঙ্গ ১১, হিসপ্যানিক ১১ ও এশিয়ানসহ অন্যান্য ৮ শতাংশ ভোট। সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বেশির ভাগ গ্রামাঞ্চলে বাস করেন।
তারা প্রায় সবাই রক্ষণশীল মানসিকতার এবং রিপাবলিকান দলের সমর্থক। শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে যারা শিক্ষিত ও শহরাঞ্চলে বসবাস করেন তাদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থক বেশি।
অপরদিকে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপ্যানিক ও এশিয়ানসহ অভিবাসীদের সিংহভাগ ডেমোক্র্যাটকে সাধারণত ভোট দেয়। ২০০৮ ও ২০১২ সালে বারাক ওবামা সংখ্যালঘু ভোট পেলেও ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন তা পাননি। তাদের অনেকেই ভোট দিতে যাননি।
অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গরা সাধারণত ভোটদানে আগ্রহী না হলেও গত নির্বাচনে তারা ট্রাম্পের পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ফলে সব জরিপের ধারণা ভেঙে দিয়ে ট্রাম্প জয়ী হন।
চার বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকান্ড, তার বেফাঁস মন্তব্য-কথাবার্তা এবং কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের কারণে সংখ্যালঘু ভোটাররা অনেকটাই তার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের আচরণের কারণে আগের মতো তার সমর্থনে নেই শ্বেতাঙ্গদের একটি অংশ। করোনা মহামারীতে ট্রাম্পের দায়িত্বহীন আচরণেও অনেক শ্বেতাঙ্গ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
নির্বাচন যে হাড্ডাহাড্ডি হবে তা বোঝা যাচ্ছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই প্রার্থীর নির্ঘুম প্রচারণায়। দুই প্রার্থী থেকে শুরু করে সমর্থকরা আছেন স্নায়ুচাপে। রোববার ও সোমবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী প্রচারণা চালিয়েছেন দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক রিপোর্টে বলা হয়, বাইডেন জয়লাভ করলে শ্বেতাঙ্গবাদী ‘সুপ্রিমেসিস্টরা’ সংঘবদ্ধ হয়ে কৃষ্ণাঙ্গ, ইসপ্যানিক, ইহুদি এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালাতে পারে। আর ট্রাম্প জয়ী হলে ব্যাপক বিক্ষোভ গড়ে উঠতে পারে। বাইডেন সমর্থিত ‘এনটিফা’ বা ‘বিএলএম’ নেতৃত্বে গড়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘাতেরও আশঙ্কা করা হয়েছে।
রেকর্ডসংখ্যক প্রায় সাড়ে ৯ কোটি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে, অনলাইন এবং ডাকযোগে এই আগাম ভোট দেয়া হয়েছে। করোনা মহামারীর মধ্যে মূল ভোটের দিন ভিড় এড়াতে বিপুলসংখ্যক ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের ধারণা, আজ পাঁচ কোটি ভোটার ভোট দেবেন। এবার নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ।

Related posts