বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

‘সুচিত্রা সেন ছিলেন সাধারণের মধ্যে অসাধারণ’

পাবনা প্রতিনিধি :    

সুচিত্রা সেন অভিনয় শিখে অভিনয় করতে আসেননি। তিনি ছিলেন সাধারণের মধ্যে অসাধারণ একজন অভিনেত্রী। তার চলাফেরায় প্রতিটি অঙ্গ যেন কথা বলতো। কথা না বলেও যে অভিনয় করা যায়, সুচিত্রা সেন সেটি প্রমাণ করে গেছেন। তিনি তার অভিনয় দিয়ে আজো দর্শক হৃদয়ে দাগ কেটে আছেন।

শুক্রবার সকালে পাবনা প্রেসক্লাবে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবসের স্মরণসভায় একথা বলেন বক্তারা।

এ স্মরণসভার আয়োজন করে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ।

সুচিত্রা সেনের স্মৃতি রক্ষায় তার পৈত্রিক বাড়িতে স্মৃতি সংগ্রহশালার কাজ ধীর গতিতে চলছে। এতে হতাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা। এসময় সবাই দ্রুত সংগ্রহশালার কাজ শেষ করার দাবি জানান।

সংবাদ উপস্থাপক শামীম চৌধুরী সভায় আন্তর্জাতিক আদলে পাবনায় একটি ‘হাউজ অব ফেইম’ নির্মাণের প্রস্তাব রাখেন। তাহলে সুচিত্রা সেন ছাড়াও আরো গুণী ব্যক্তিদের স্মৃতি রক্ষা হবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাদের সর্ম্পকে জানতে ও শিখতে পারবে বলে জানান তিনি।

পরিষদের সভাপতি সাইদুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জিব কুমার ভাটি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ, পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি।

স্বাধীন মজুমদারের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. নরেশ মধু। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুচিত্রা সেন অভিনীত চলচ্চিত্রের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।

অপরদিকে, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টায় পৈত্রিক বাড়িতে সুচিত্রা সেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসকসহ সাংস্কৃতিককর্মীরা। সেখান থেকে সুচিত্রা সেন স্মরণ পদযাত্রা বের হয়ে পাবনা টাউন গার্লস স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে স্মরণসভায় সুচিত্রা সেনের জীবনীর উপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীমা আক্তার, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জাহেদী, জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান। স্মরণসভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনায় জন্ম নেন সুচিত্রা সেন। পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হীমসাগর লেনের একতলা পাকা পৈতৃক বাড়িতে সুচিত্রা সেনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে। শহরের মহাকালী পাঠশালায় পড়ালেখা শেষ করে সুচিত্রা সেন স্থানীয় পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের কয়েক মাস আগে তার বাবা করুণাময় দাসগুপ্ত সপরিবারে ভারত পাড়ি দেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সুচিত্রা সেন বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে ৬৩টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি হয়ে উপমহাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলেন। ১৯৭৮ সালে উত্তম কুমার মারা গেলে অভিনয় বন্ধ করে দেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Related posts