মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ হারলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। বোলারদের ব্যর্থতার পর ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পণে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচ ৫০ রানে হারলো সাকিবের দল। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। সন্ধ্যার শিশির এড়াতেই পরে ব্যাট করার পরিকল্পনা টাইগারদের। তবে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার এভিন লুইস ও শাই হোপ। বাংলাদেশের পেসার আবু হায়দারের প্রথম ওভার থেকেই ১২ রান তুলে নেন লুইস ও হোপ। দ্বিতীয় ওভারে ৮ রান তুললেও, তৃতীয় ওভারে ২৭ রান আদায় করে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার। এবারও বোলার ছিলেন আবু হায়দার।
দ্রুত রান তোলার ধারাবহিকতা অব্যাহত রেখেছিলেন লুইস ও হোপ। তাই ৪ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৩ রান। প্রতিপক্ষের রানের লাগাম টেনে ধরার লক্ষ্যে পঞ্চম ওভারে বল হাতে আক্রমনে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লুইস। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন লুইস। টি-২০ ফরম্যাটে পঞ্চম দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি এটি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম।
লুইসের হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন সাকিব। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২ বলে ২৩ রান করা হোপকে বোল্ড করেন সাকিব। হোপ ফিরে গেলেও, ল্ইুস ঝড় চলছিলো মিরপুরে। পাওয়ার প্লেতে ৮৮ রান পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সপ্তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটান বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। তিন নম্বরে নামা কিমো পলকে ২ রানে থামিয়ে দেন ফিজ।
দলীয় ৯০ রানে পল ফিরলেও, দলের রানের চাকা সচল রাখেন লুইস। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগে তার। এমন সময় বল হাতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আক্রমনে আনেন সাকিব। আক্রনে এসেই চমক দেখান মাহমুদুল্লাহ। নিজের প্রথম ও ইনিংসের দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে লুইসকে বোল্ড করেন করেন মাহমুদুল্লাহ। ৬টি চার ৮টি ছক্কায় মাত্র ৩৬ বলে ৮৯ রান করেন একবার জীবন পাওয়া লুইস।
লুইসকে শিকার করার পরের বলেই শিমরোন হেটমায়ারকে বিদায় দেন মাহমুদুল্লাহ। লেগ বিফোর ফাঁেদ পড়ে শুন্য হাতে ফিরেন হেটমায়ার। এক বলের ব্যবধানে লুইস-হেটমায়ারকে হারিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দলকে চিন্তামুক্ত করার চেষ্টা করেন রোভম্যান পাওয়েল ও নিকোলাস পুরান। পঞ্চম উইকেটে ভালো একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তারা। রান তোলার কাজটা দ্রুতই করেছেন এ জুটি। তবে তাদের একসাথে বেশি দূর যেতে দেননি মাহমুুদুল্লাহ। আবারো বাংলাদেশের ত্রানকর্তা রূপে আবির্ভুত তিনি। ১৯ রান করা পাওয়েলকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মাহমুদুল্লাহ। পাওয়ালের পর থামতে হয় উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া পুরানকেও। নামের পাশে ২৯ রান রেখে ফিরেন তিনি। ফলে ১৭৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখনও ইনিংসের ২৩ বল বাকী ছিলো। কিন্তু বাকী ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯ বল থেকে মাত্র ১৪ রান নিতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের ৪ বল বাকী থাকতে ১৯০ রানেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। প্রথম ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৩ রান করেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের সাকিব-মুস্তাফিজ-মাহমুদুল্লাহ ৩টি করে উইকেট নেন।
টার্গেট বড়, ওভার প্রতি প্রায় ১০ রান করে তুলতে হবে বাংলাদেশকে। তাই উড়ন্ত সূচনার লক্ষ্য ছিলো টাইগার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের। ভালো শুরুর ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তারা। প্রথম ওভারেই ১০ রান তুলে নেন তামিম ও লিটন। তবে দ্বিতীয় ওভারে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তামিম। ৮ রান করেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেট জুুটিতে লিটন-সৌম্য সরকার রান তুলেছেন ঝড়ো গতিতে। ফলে ৪ ওভারে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ১ উইকেটে ৬২ রান। এর মধ্যে চতুর্থ ওভারে তিন ছক্কা-এক চার ও দু’টি নো-বল-একটি ওয়াইডসহ ৩০ রান তুলে নেন লিটন-সৌম্য। এই ওভারে একটি নো-বল নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যে কারণে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ ছিলো।
তবে পরবর্তীতে খেলা শুরু হলে, তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে সৌম্য ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দেন। পরের বলে একই শট খেলে একই জায়গায় একই ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন অধিনায়ক সাকিব। বোলার ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার এ্যালেন। সৌম্য ৯ ও সাকিব শুন্য রানে থামেন।
দলীয় ৬৫ রানে সৌম্যকে দিয়ে আত্মসমর্পন শুরু হয় বাংলাদেশের। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। তাই স্কোর বোর্ডে ৯৮ রান উঠতেই অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরমধ্যে পাঁচ উইকেট নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিমো পল। সৌম্য-সাকিবের পর মুশফিকুর রহিম ১, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১১, আরিফুল হক শুন্য, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৫ রান করে ফিরেন। উইকেট পতনের তালিকায় নামও ছিলো লিটনের। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ৩টি করে চার ও ছক্কা ছিলো।
শেষের দিকে মিরাজের ১৯ বলে ১৯ ও আবু হায়দার রনির ১৭ বলে অপরাজিত ২২ রানে হারের ব্যবধানে কমে বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত ৩ ওভার বাকী থাকতে ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পল ১৫ রানে ৫ উইকেট নেন। এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের লুইস। সিরিজ সেরা হন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব।

 

 

 

 

Related posts