মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

সাতক্ষীরা অঞ্চলে আমফানের ২য় আঘাত: বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন বা প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান তাণ্ডব চালিয়েছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। দ্বিতীয়বার আঘাত হেনে ওই অঞ্চলে দাপট দেখিয়ে চলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। রাত ৮টার পর দ্বিতীয়বার ১৪৮ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হেনেছে সুন্দরবন ঘেঁষা এই জেলায়। প্রবল বর্ষণে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তির্ণ এলাকা। বুধবার রাতে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জুলফিকার আলী এ তথ্য জানান। রাত ৮টার পর তীব্র গতিতে আঘাত হানে আমফান। রাত ১০টা পর্যন্ত ঝড়ের গতি একইরকমভাবে বিরাজ করছে। ঝড়ের আঘাতে সাতক্ষীরা সদর থানার কামালনগরে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ির। ভেঙেছে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি।
এদিকে আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীর ৯টি পয়েন্ট ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খোলপেটুয়ার দয়ারঘাট ও হিজলা এবং প্রতাপনগরে কপোতাক্ষের কুড়িকাউনিয়া, দিঘলাইট, সুভদ্রকাঠি, হরিসখালী, চাকলা, বন্যতলাসহ মোট ৯ পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতাপনগরের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাংলানিউজকে জানান, জেলা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রতাপনগর।
অন্যদিকে আমফানের প্রভাবে সাতক্ষীরায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। দুপুরে ঝড়ো হাওয়া উঠতে থাকে। বিকেল ৪টায় প্রথম আঘাতের পর জোরালো দমকা হাওয়া বইছিল এবং নদনদীর পানি আছড়ে পড়ছিল বেড়িবাঁধের ওপর। শ্যামনগর ও আশাশুনির বিভিন্ন ইউনিয়নের বিশেষ করে গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা ইউনিয়নে ৪৫টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। এরই মধ্যে শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, প্রতাপনগর, খাজরা ও কালিগঞ্জের মথুরেশপুরে নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে।
সুন্দরবনের সীমান্ত নদী কালিন্দী ও মাদার নদীর পানি ফেঁপে বনে ছড়িয়ে পড়েছে। আমফানের কারণে উপকূলীয় এলাকার শত শত চিংড়িঘের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘেরের ছোট ছোট রিং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে বলে চিংড়ি চাষিরা জানিয়েছেন।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানান, তার এলাকার দাতিনাখালি, ভামিয়া ও দুর্গাবাটির তিনটি পয়েন্টে খোলপেটুয়া নদীতে পানি বেড়ে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী হয়ে উঠেছে উত্তাল। এসব নদী এখন ক্ষিপ্র রাক্ষুসীর রূপ নিয়েছে।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ঝুঁকির মধ্যে থাকা ২ লাখ ৮৯ হাজার মানুষকে ১৮৪৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৯ হাজার গবাদি পশুর জীবন রক্ষায়ও এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তিনি জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গত মানুষকে সেবা দেয়া হচ্ছে। শিশুদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী মায়েদের সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
গাবুরা ইউপি মেম্বার গোলাম মোস্তফা জানান, তার এলাকায় খোলপেটুয়া এবং কপোতাক্ষ নদীর পানি ওভার ফ্লো হয়েছে। সেখানে বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

Related posts