রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

‘সাতক্ষীরার কুল’ এখন ব্র্যান্ডে পরিণত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: কুল চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন সাতক্ষীরার চাষিরা। কুল চাষ করে লাভবান হয়েছেন এ জেলার শত শত কৃষক। সারাদেশের বাজারেই পাওয়া যাচ্ছে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত কুল।

চাষিরা বলছেন, অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে কুল এর আবাদ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও শত শত মেট্রিক টন কুল চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ‘সাতক্ষীরার কুল’ এখন ব্র্যান্ডে পরিনত হয়েছে।

২০০০ সালের পর থেকে এ জেলায় বানিজ্যিক ভাবে উন্নত জাতের কুল চাষ শুরু হয়। লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য ফসলের আবাদ কমিয়ে এ জেলার অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়ে কুল চাষে।

স্থানীয় বিজ্ঞজনরা বলছেন, জেলায় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই ‘সাতক্ষীরার কুল’। এখানের মাটি ও আবহাওয়া কুল চাষের জন্য অনুকূল মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর সাতক্ষীরায় কুলের ভাল ফলন হয়েছে। কৃষকরাও ভাল দাম পাচ্ছেন। গত মৌসুমে জেলায় কুল চাষ হয়েছিলো ৫৫০ হেক্টর জমিতে। সেখানে এবছর কুলের চাষ হয়েছে ৬৫৪ হেক্টরে। উৎপাদন হবে অন্তত ৭ হাজার মেট্রিক টন কুল।

এবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় উপজেলায় ১০৪ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ৩১৬ হেক্টর, তালায় উপজেলায় ১৫৮ হেক্টর, দেবহাটায় উপজেলায় ১৬ হেক্টর, কালিগঞ্জে উপজেলায় ২০ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে কুলের চাষ হয়েছে।

এখানে উৎপাদিত কুলের মধ্যে রয়েছে বাউকুল, আপেলকুল, নাইন্টিকুল, নারকেলকুল, ঢাকা-৯০ কুল, বিলাতিকুল ও মিষ্টিকুল।

প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ মন করে কুল উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ। এ জেলার উৎপাদিত এসব কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে খুলনা, গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়ে থাকে।

সদর উপজেলার তুজুলপুর এলাকার কুলচাষি ইয়ারব হোসেন বলেন, ‘এবার বিভিন্ন জাতের কুল চাষ করেছি। বুলবুল ঝড়ের কারণে সামান্য ক্ষতি হলেও ফলন ভালোই। সরকার চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ দিলে এ জেলায় কুল চাষ আরও অনেক বেশি সম্প্রসারিত হতো।’

কুল চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। প্রতি কেজি কুলের পাইকারি মূল্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সব খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৯০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দু বিশ্বাস জানান, এবছর সাতক্ষীরায় কুলের ভাল ফলন হয়েছে। কৃষকরা ভাল দামও পাচ্ছেন। জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কুল চাষ। সরকার কুল চাষিদের সব ধরণের সহযোগিতা করছে।

Related posts