বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ১৯ মাঘ ১৪২৯

সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে করোনা ভ্যাকসিন: ডব্লিউএইচও

এসবিনিউজ ডেস্ক: বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস রুখতে বিভিন্ন দেশের গবেষকরা এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে মানব দেহে কোভিড-১৯’র ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ শুরু করেছে ব্রিটিশ গবেষকরা। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি দল এটি তৈরি করেছে। এই অবস্থায় করোনা ভ্যাকসিন সবার জন্য নিশ্চিত করার কথা বলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান।

শুক্রবার এক অনলাইন সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান ট্রেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, সব নতুন ভ্যাকসিন, ডায়াগনোস্টিকস ও চিকিৎসাসেবা বিশ্বজুড়ে প্রত্যেকের জন্য অবশ্যই সমতার ভিত্তিতে সহজলভ্য করতে হবে।

কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গতি বৃদ্ধির পরিকল্পনার বিষয়ে এই রোগটির প্রতিরোধ ও চিকিৎসার কার্যকর ওষুধ, পরীক্ষা এবং ভ্যাকসিনগুলো তৈরির গতি বাড়ানোর জন্য যুগান্তকারী সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, ফুসফুসের এই রোগটি সবার জন্য সাধারণ হুমকি; এটিকে আমরা পরাজিত করতে পারি একটি উপায় অবলম্বন করে।

ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়ে ট্রেড্রোস বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, যখন নতুন কোনো কিছু তৈরি হয়; তখন সেটি সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য হয় না। কিন্তু আমরা এমনটি হতে দিতে পারি না।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, ডায়াগনোস্টিকস এবং চিকিৎসাসেবা আবিষ্কারের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মে মাসের শুরুর দিকে বৈশ্বিকভাবে সাড়ে ৭ বিলিয়ন ইউরো তহবিল গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা প্রথম ধাপ মাত্র, ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু দরকার হবে।

আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরিল রামাফোসা করোনাভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চমৎকার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আফ্রিকা মহাদেশ এই ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি; একই সঙ্গে করোনার লড়াইয়ে বিশ্বের সহযোগিতা চেয়েছেন।

ইউরোপে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের অক্সফোর্ট এলাকায় দুজন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে পুশ করা হয়েছে ভ্যাকসিন। দেশটিতে সবমিলিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকা প্রয়োগের জন্য ৮০০ স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করা হয়েছে। এদের ৪০০ জনকে দেওয়া হবে করোনার টিকা। বাকিদের দেয়া হবে মিনিনজাইটিসের টিকা।

বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি একটি ভ্যাকসিন প্রাথমিকভাবে দুজনের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। এলিসা গ্রানাতু নামে এক বিজ্ঞানী প্রথম ভ্যাকসিনটি নিয়েছেন। আরও প্রায় ৮০০ জনের দেহে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে।

বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড এলাকার যে ব্যক্তির দেহে প্রথম টিকাটি পুশ করা হয় তিনি একজন নারী, নাম এলিসা গ্রানাটো।

জেন্নার ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনোলজি ( টিকা শাস্ত্র) বিভাগের অধ্যাপক সারাহ ক্যাথেরিন গিলবার্টের নেতৃত্বে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী দীর্ঘ ৩ মাস ধরে চেষ্টার পর করোনার এই টিকা তৈরি করেছেন।

অধ্যাপক গিলবার্ট এই টিকা করোনার বিরুদ্ধে কাজ করবে বলে ৮০ শতাংশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি তো আশাবাদী হতেই পারেন। কেননা তার নেতৃত্বাধীন অক্সফোর্ডের এই গবেষক দলটিই যে এর আগে করোনার আরেক জাত হিসাবে পরিচিত মার্স ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন। আর তারা এভাবেই তখন সফল হয়েছিলেন এবং গণহারে মানুষের ওপর প্রয়োগের আগে এভাবেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আয়োজন করেছিলেন।

Related posts