মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

শীতের আগমনে কদর বেড়েছে খেজুর গাছের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম। গ্রামাঞ্চলের গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খেজুর গাছের রস সংগ্রহে। পুরোপুরি শীত আসার আগেই খেজুর গাছ থেকে রস আহরোনের জন্য গাছ প্রস্তুত করছেন গাছিরা। জেলার গ্রামাঞ্চলগুলোতে রাস্তার ধারে বা বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা খেজুর গাছ তুলতে ব্যস্ত সময় পারছেন তারা।

শীতের শুরুতেই যেন খেজুর রস সংগ্রহের প্রতিযোগিতা। সেই সঙ্গে কদর বেড়েছে অবহেলায় পড়ে থাকা গাছগুলোর। কোমরে দড়ি ও হাতে ধারালো দা নিয়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের উপযোগী করতে ব্যস্ত গাছি জাহাঙ্গীর শেখ। তিনি তালা সদর ইউনিয়নের আগোলঝাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

প্রতি বছরই শীতের মৌসুমে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে রস ও গুড় বিক্রি করে সংসার চলে জাহাঙ্গীর শেখের। গাছ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকালে হাস্যোজ্বল জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, খেজুর গাছ তুলছি। (পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছি)। শীতের তিব্রতা শুরু হওয়ার আগেই রস আহরোনের উপযোগী করতে হবে। আমি ৩০টি খেজুর গাছ তুলবো এবার। শীতের মৌসুমে আপাতত আর কোনো কাজ নেই।

গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বিক্রি ছাড়াও রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করব। এ থেকে যা রোজগার হবে তাতেই আমার সংসার ভালোভাবে চলবে।

তিনি বলেন, আমার নিজের গাছ তিনটি। অন্যের জমির পাশে বা বাড়ির আঙ্গিনায় পড়ে থাকা গাছগুলোকে শীতের মৌসুম বাড়তি পরিচর্যা করে রস সংগ্রহ করব। অন্যের খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তাদেরও অর্ধেক ভাগ দিতে হবে। তারপরও শীতের এ চার মাসে রস ও গুড় বিক্রি করে আমার প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

শুধু লাভের আশায় নয় প্রতি বছরে কাজের প্রতি ঝোঁকটা অনেক বেশিই থাকে। খেজুর গাছের রস জ্বালিয়ে পাওয়া প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হবে ৮০-১০০ টাকায়। আমার খরচ পড়বে ৪০-৫০ টাকা।

হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার খেজুর গাছের রস সংগ্রহের ঐতিহ্য। অনেকটা বিলুপ্তির পথে। বসতি বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো খেজুর গাছও নেই। এখন খেজুর গাছও খুব কম পাওয়া যায়। এসব কথা জানিয়ে তালা সদরের শিবপুর গ্রামের আকবার আলী জানান, প্রতি বছরই আমি শীত মৌসুমে খেজুর রস সংগ্রহ করি। আগের মতো এখন আর লাভ হয় না। সব জিনিস পত্রের দাম বেশি। মাটির কলসসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করতে হয়। যার কারণে লাভও কম হয়। আমি ২৫টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করব। আশা করছি, খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ির অফিস সহকারী শেখ হাফিজুর রহমান জানান, জেলায় বছর ৪০ হাজার খেজুর গাছ থেকে শীত মৌসুমে রস সংগ্রহ করবেন গাছিরা (চাষীরা)। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যাও কমে গেছে। খেজুর গাছের বাড়তি চাষ না হওয়া এর অন্যতম কারণ। ২০১৮ সালে জেলায় খেজুরের গুড় উৎপাদন হয়েছিল ৮২২ মেট্রিকটন। চলতি বছর ৮০০ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যাবে আশা করছি।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক অরবিন্দু বিশ্বাস বলেন, এখন খেজুর গাছ খুব বেশি দেখা যায় না। এ ছাড়া খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমেছে। আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করি খেজুর গাছ কেটে রস খাবেন। তবে কৃষকরা এতে অনাগ্রহ দেখায়। খেজুরের রস সংগ্রহ করা এটাও অনেক লাভজনক। রস ও গুড়ের চাহিদাও রয়েছে অনেক। খেজুরের রস থেকে উৎপাদিত গুড় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা, খুলনাসহ বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। খেজুর রসে পিঠাপুলিও জনপ্রিয়। পরিবেশের কারণে এখন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে।

 

Related posts