শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দুই পরিকল্পনা

এসবিনিউজ ডেস্ক: শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বরে স্কুল খুলে দেয়ার প্রস্তুতি এবং নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগোলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে ২ ধরনের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানা গেছে।
প্রথম : সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে চলতি বছরের মধ্যেই সিলেবাস কমিয়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করা হবে। দ্বিতীয় : সেপ্টেম্বরে খোলা সম্ভব না হলে চলতি শিক্ষাবর্ষ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
তবে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হতে পারে। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং সবার শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা হবে। করোনার কারণে এবার এসএসসির ফল প্রকাশে দেরি হয়। এরপর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিও আটকে ছিল। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আগামী ৯ আগস্ট থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো স্থগিত রয়েছে। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী।
এছাড়া স্কুলের ষান্মাসিকসহ নানা ধরনের পরীক্ষা আটকে আছে। শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করতে পারলেও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। সব মিলে করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশের ৫ কোটি শিক্ষার্থীই নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বাচ্চাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। তাই সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পোষাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ মিনিট টোল ফ্রি পরামর্শও চালু করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, করোনার মধ্যেই আমরা এসএসসির ফল প্রকাশ করেছি। একাদশে ভর্তি কার্যক্রমও শুরু করতে যাচ্ছি, তবে আটকে আছে এইচএসসি পরীক্ষা। এখন এইচএসসি পরীক্ষা নিতে হলে কমপক্ষে ১৫ দিন ২০ থেকে ২৫ লাখ লোকের চলাফেরা বাড়বে। এতে ভীতি থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন করোনা থাকলে আমাদের বিকল্প ভাবতে হবে। আমরা সবকিছু নিয়েই কাজ করছি, পরিকল্পনা করছি। তবে আরও কিছুদিন সময় নিতে চাই।
প্রসঙ্গত গত ১৭ মার্চ বন্ধ হয়ে যায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা ছুটি বাড়ানোর পর আবারও গত ২৯ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করা হয়। তবে এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা কম।

Related posts