শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

রাবির প্রথম ইমেরিটাস অধ্যাপক এবিএম হোসেন আর নেই

এসবিনিউজ ডেস্ক: ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলামের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই আরেক ইমেরিটাস অধ্যাপককে হারালো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। ফখরুল ইসলামের মৃত্যুর ১০ দিন না পেরোতেই এবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ বি এম হোসেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
তার মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন রাবির প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, গতরাতে প্রবীণ এই অধ্যাপক মারা যান। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন বলে জেনেছি। কয়েকদিন আগে তিনি বাথরুমে পড়ে যান। এতে তার বুকের হাড় ভেঙে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অধ্যাপক এবিএম হোসেনের পুরো নাম আবুল বাশার মোশারফ হোসেন। ১৯৩৪ সালে তিনি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৭২ সালে অধ্যাপক পদে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি বিভাগীয় প্রধান, কলা অনুষদের ডিন ও প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন তিনি। ইতিহাস বিষয়ে তার ১১টি গ্রন্থ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে তিনি অসংখ্য গবেষণা করেছেন। ১৯৭৭ সালে নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গঠিত বোর্ডে ড. এবিএম হোসেনকে সদস্য মনোনীত করে। তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ও বাংলা একাডেমির সম্মানিত আজীবন ফেলো।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ইমেরিটাস অধ্যাপক এ বি এম হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গভীর শোকাচ্ছন্ন উপাচার্য বলেন প্রফেসর এ বি এম হোসেন কেবলমাত্র আমার পরমশ্রদ্ধেয় শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক। তাঁর ¯েœহ, তাঁর আদর্শ, তাঁর গভীর অনুপ্রেরণা আমার জীবনের পাথেয় হয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইতিহাসবিদকে হারালো। উল্লেখ্য, History Society Culture: A.B.M. Husain Festschrift শীর্ষক সম্মাননা গ্রন্থটি তাঁর সাথে তিনি যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। তিনি তাঁর মরহুম পরমশ্রদ্ধেয় শিক্ষকের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এদিকে আজ বাদ যোহোর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Related posts