রবিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ❙ ৮ মাঘ ১৪২৯

যুবকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়া মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা!

এসবিনিউজ ডেস্ক: যুবকের হাত ধরে পালিয়ে যায় নিজের ১৪ বছরের এক কিশোরী মেয়েকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছে বাবা! সম্প্রতি ইরানে এমন নেক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় বইছে পুরো ইরানজুড়ে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানায়, রমিনা আশরাফি নামে ওই মেয়েটির বাড়ি তেহরান থেকে প্রায় ৩২১ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমের কাউন্টি তালেশের শহরে। ১৪ বছরের রমিনা ২৯ বছর বয়সী এক যুবককে ভালোবাসতো। কিন্তু পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নিতে সম্মত না হওয়ায় মে মাসের মাঝামাঝিতে সে যুবকের হাত ধরে পালিয়ে যায়। যদিও ইরানের আইন অনুযায়ী ১৩ বয়সে মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়।
পরবর্তীতে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে পুলিশ মেয়েটিকে তার পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেয়। যদিও আশরাফি বারবার তাকে বাড়ি না পাঠানোর আকুতি জানায়। পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে। কিন্তু তার অনুরোধে সাড়া দেয়নি পুলিশ। ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে জানিয়েই বাবা রেজা আশরাফি তাকে গ্রহণ করে।
কিন্তু ২১ মে আশরাফি যখন তার কক্ষে ঘুমচ্ছিল, বাবা একটি কাস্তে নিয়ে ঢুকে পড়ে এবং আঘাত করে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ ঘটনায় ঘাতক বাবা অপরাধ স্বীকার করেছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পরিবারের সম্মান রক্ষার যুক্তিতে ‘অনার কিলিং’ নামক এমন নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছে ইরানের মানুষ। ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ইরানের আইন অনুযায়ী, অনার কিলিংয়ে বা কোনো ব্যক্তি যদি তার মেয়েকে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তাকে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়ার নিয়ম রয়েছে সেখানে। যদিও অন্যান্য খুনের ক্ষেত্রে সাধারণত অর্থ বা মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এ ধরণের হত্যাকাণ্ড বন্ধে তিনি কঠোর আইনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং পার্লামেন্টে বিল আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের আইন বিষয়ক উপমন্ত্রী মাহমুদ আব্বাসি বলেন, যথাযথ বিচারের আওতায় আমরা এ হত্যাকারীকে কঠিন সাজা দেব। তিনি বলেন, এটিই শেষ নয় আশরাফির মতো আর কাউকে যাতে এভাবে জীবন দিতে না হয় আমরা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Related posts