রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

মুজিববর্ষে আইসিটি বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ

এসবিনিউজ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত ১০০ ঘণ্টা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে মুজিববর্ষে আইসিটি বিভাগের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মুজিববর্ষে আইসিটি ডিভিশনের কোর ওয়ার্ক স্ট্র্যাটেজি আছে। আমরা এ বর্ষে অতিরিক্ত ১০০ ঘণ্টা কাজ করতে চাই। এটা আমাদের ১০০+ কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। আমরা স্বাভাবিকভাবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করি। দিনে অন্তত ১ ঘণ্টা বেশি কাজ করে আমরা ৩৬৫ দিনে ১০০ ঘণ্টা বেশি কাজ করব। মুজিববর্ষে এ আমাদের অঙ্গীকার।”

পলক জানান, মুজিববর্ষে আইসিটি বিভাগ ১০০টির বেশি সরকারি সেবা ডিজিটালাইজ করার মাধ্যমে ১০ কোটি মানুষকে সেবা দেবে।

তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের উৎসাহ দিতে আইসিটি বিভাগ ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট চালু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সেরা ১০টি উদ্ভাবনকে এই অনুদান দেওয়া হয়, যাতে প্রতিটি উদ্যোগ পায় ১০ লাখ টাকা করে।

এবার শুধু বাংলাদেশ নয়, বন্ধু দেশগুলো থেকেও তরুণ উদ্যোক্তারা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পলক বলেন, “স্টার্ট আপ বাংলাদেশের আওতায় বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্টকে আমরা ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। জানুয়ারিতে হবে বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্টের গ্র্যান্ড ফিনালে।”

আইসিটি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষে  এক লাখের বেশি তরুণকে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  আর ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের দশ বছর পূর্তি হবে চলতি বছরের ১১ নভেম্বর। 

এ বছর ডিসেম্বরে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে পলক বলেন, “নেক্সট ওয়েভ অব ইনোভেশন কী হবে, আমরা সেখানে সেটা উপস্থাপন করব।”

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে আসা বিদেশি অতিথিদের সামনে বঙ্গবন্ধুর জীবন  ও কর্ম প্রদর্শনের জন্য অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করবে আইসিটি বিভাগ। সাতই মার্চের ভাষণের ইংরেজি সংস্করণ করার পর তা নিয়ে আসা হবে আইওস প্ল্যাটফর্মে।

বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের নানা দিক নিয়ে আইসিটি বিভাগ হলোগ্রাফিক কনটেন্টও তৈরি করেছে।  ৭ মার্চ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ইয়াং বাংলা আয়োজিত জয় বাংলা কনসার্টের সন্ধ্যায় সেই হলোগ্রাফিক কনটেন্ট উপস্থাপন করা হবে।

পলক জানান, এই হলোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি করতে তারা বেছে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি বাক্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখার পর ওই কনটেন্টে অনুমোদন দিয়েছেন।

আগামী ১৯ মার্চ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত শিশু মেলাতেও বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক কনটেন্ট প্রদর্শন করা হবে।

এছাড়া ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট জাদুঘরে স্থায়ী হলোগ্রাফিক থিয়েটার স্থাপন করবে আইসিটি বিভাগ।  ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গেলে দর্শকরা যেন সেই হলোগ্রাফিক উপস্থাপনা দেখতে পান, সেই বন্দোবস্তও করা হবে।

এছাড়া ২০২১ সালের ‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন আইটি’ তে উপস্থাপন করা হবে এই হলোগ্রাফিক কনটেন্ট।  এ আয়োজনে বাংলাদেশ স্বাগতিক।

পলক জানান, অডিও বুক আকারে বঙ্গবন্ধুর জীবনী প্রকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনের যে দিকগুলোর কোনো অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নেই, সেগুলোকে অ্যানিমেশন চরিত্রে উপস্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ব্লগ তৈরি করে তাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নানা কর্ম নিয়ে ‘নিউজ ও ফিচার’ উপস্থাপন করবে আইসিটি বিভাগ।

বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট বা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি অনুমোদিত বইয়ের পাশাপাশি‘ অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ থেকে প্রশ্ন তৈরি করে অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।  প্রতি মাসেই বিজয়ীদের জন্য থাকবে পুরস্কার।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভিজুয়্যাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও পুরস্কার থাকছে বলে জানান পলক।

Related posts