মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

ভাষা আন্দোলন রূপ নেয় গণ-আন্দোলনে

এসবিনিউজ ডেস্ক: একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সরকার গুলি চালায় ছাত্রদের আন্দোলনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। অথচ ছাত্রদের ওপরে গুলি চালানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মতভেদ হাওয়ায় উড়ে যায়। শহিদ ছাত্রদের রক্তের দাগ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ছাত্ররা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ভাষা আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজনীতির বাইরে থাকা সাধারণ ছাত্ররা দলে দলে যুক্ত হতে থাকল জমায়েতে। সরকার ও পুলিশ ভুলে গেল শহর থেকে তখনও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়নি। গুলি চালানো এবং ছাত্রজনতা হতাহতের সংবাদে ঢাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আসতে লাগল হাসপাতালে, ব্যারাকে। শহিদদের একনজর দেখতে চায় মানুষ।

এদিকে, পরিষদ ভবনকে (বর্তমানের জগন্নাথ হল) কেন্দ্র করে তিন দিক থেকে তিনটি মাইক আগুন ঝরাচ্ছে। ‘রক্তের বদলে রক্ত’, ‘একুশের শপথ রাষ্ট্রভাষা বাংলা’, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ মাইকে মাইকে এসব স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত। ছাত্রদের ওপরে গুলি ও হতাহতের ঘটনায় পরিষদ ভবনেও ঝড় উঠেছে। খয়রাত হোসেন, মওলানা তর্কবাগীশসহ নির্দলীয় এবং কংগ্রেস সদস্যরা এর প্রতিবাদে পরিষদ বর্জন করেন। ধীরেন দত্ত পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং মওলানা তর্কবাগীশ ছাত্রদের জমায়েতে বক্তৃতা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ছাত্রদের ব্যস্ততার শেষ নেই। ব্যারাক কক্ষে সবাই মিলিত হয়ে পরদিন অর্থাত্ ২২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল, ঘরে ঘরে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, মেডিক্যাল ব্যারাক থেকে শোক মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচি নেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে গেল।

মোহাম্মদ সুলতান লিখেছেন, ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের অস্তিত্ব আর রইল না। সন্ধ্যা ৬টায় নতুন করে ভাষা আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের সভা বসল মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসের ৩ অথবা ৪৯ নম্বর রুমে। নতুন করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হলো। অলি আহাদ আহ্বায়ক নির্বাচিত হলেন। আন্দোলন পরিচালনার জন্য কতকগুলো কেন্দ্র ঠিক করা হলো। নতুন ঢাকার জন্য সলিমুল্লাহ হল, আর পুরান ঢাকার জন্য জগন্নাথ কলেজ আমাদের সব আন্দোলন পরিচালনার সেক্রেটারিয়েট রূপে চিহ্নিত হলো। মেডিক্যাল কলেজ, সলিমুল্লা মুসলিম হল ও জগন্নাথ কলেজ থেকে ঘোষিত হলো ২২ ফেব্রুয়ারি সব গৃহে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। শহিদ ভাইয়ের মৃতদেহ ও তাদের রক্তরঞ্জিত পতাকা শোভিত মিছিল প্রথম শহিদ বরকতের গুলি লেগেছিল যেখানে সেখান থেকে বের হবে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এ কর্মসূচি প্রচার হতে থাকল।’

Related posts