বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২৪ মাঘ ১৪২৯

বেড়িবাঁধ মেরামত হয়নি, কয়রার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: ঘুর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যাওয়া খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘাটাখালি হরিনখোলা, উত্তর বেদকাশির গাজীপাড়া, হাজতখালি, কাটকাটার রত্নাঘেরি বেড়িবাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এ সব জায়গা দিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে লোনা পানি ওঠানামায় মানুষের বসতবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুর, ক্ষেতখামার ও ফসলের জমিসহ অভ্যন্তরীন কাঁচাপাকা রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। অবর্ণনীয় দুঃখকষ্টে এখানকার হাজার হাজার মানুষ লোনা পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে পাউবোর ১৩/১৪-১ ও ১৩-১৪-২ পোল্ডারের কয়রা সদর, মহারাজপুর, উত্তর বেদকাশি ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ১৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে ১৯ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর মাছের ঘের তলিয়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতিসহ ৫শ ৫২ হেক্টর কৃষি জমির ফসল ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ও ২১ কিলোমিটার বাঁধের আংশিকসহ অভ্যন্তরীন কাঁচাপাকা ৩০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জাফর রানা।

গত ৪/৫ দিন যাবত এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত কাজে অংশ নেয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পাউবো কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও তদারকিতে সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ কয়রা সদর ইউনিয়নের ২নং কয়রা, ঘাটাখালি হরিনখোলা, হাজতখালি, গাজীপাড়া ও রত্নাঘেরির বেড়িবাঁধ মেরামত কাজে অংশগ্রহণ করেন।

ঘাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে এখানকার ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন অনেক মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ২নং কয়রা গ্রামের বাসিন্দা আবু মুছা জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সবই তলিয়ে যাওয়ায় এখন আর মাথাগোঁজার ঠাই নেই। জরুরী ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ মেরামতের দাবী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের। উত্তর বেদকাশির কাশিরহাট-গাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা গীতা রাণী সরকার কান্নাজড়িত কষ্ঠে বলেন, গাজীপাড়া বেড়িবাঁধের ব্যাপক এলাকা ভেঙে তাদের ১৫ বিঘা মাছ চাষের ও ফসলের জমিসহ আশপাশের লোকজনের আরো ৫০ বিঘা জমি কপোতাক্ষ নদে বিলীন হয়ে গেছে। লোনা পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে সর্বশেষ আশ্রয়স্থল টুকু পর্যন্ত হারানোর উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজীপাড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন রুস্তম গাজীরসহ আরো ১০/১৫টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে তারা। স্থানীয় সনাতন সরকার জানান, হাজতখালি বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে বিনয় মন্ডল, পরেশ মন্ডল, কার্তিক মন্ডল, পরিতোষ মন্ডল, হরেন মন্ডল, গুনধর মন্ডল, জগদীশ মন্ডল, পরিমল বরকন্দাজ. অমল বরকন্দাজ, সুনীল বরকন্দাজ ও সাধন মন্ডলের বসতঘর নদীগর্ভে পুরোপুরি বিলীন হয়েছে। কাটকাটার রত্নাঘেরি বেড়িবাঁধ মেরামত করার পর জোয়ারের চাপে পুনরায় সেটি ভেঙে গেছে। 

বেড়িবাঁধ মেরামত প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ মেরামত করতে সরকার সেনা তদারকিসহ সকল ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

Related posts