বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ১৯ মাঘ ১৪২৯

বেশি লাভ করতে গিয়ে সর্বনাশ আনবেন না: হাসিনা

এসবিনিউজ ডেস্ক:অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কিছু অতি উৎসাহী লোকের কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মনমানসিকতার পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে আগুন নেভানোয় সহায়তা করার আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন কোথাও আগুন লাগে সেখানে শুধু শুধু বিপুল সংখ্যক জনগণ জড়ো হয়ে দমকল কর্মীদের আগুন নেভানোর কাজে বিঘেœর সৃষ্টি করে। এদের মধ্যে অনেকে আছে যারা কেবল কি হচ্ছে দেখার জন্য যায় এবং মোবাইলে সেলফি তোলে, আমি বুঝি না এখানে সেলফি তোলার কি আছে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার ছবি না তুলে তারা কয়েক বালতি পানিওতো এগিয়ে দিয়ে আগুন নেভানোয় অংশ নিতে পারে, তাদের আসলে মানসিকতাটার পরিবর্তন দরকার এবং কিভাবে আগুন নেভানোয় সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে চিন্তা করা উচিত।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শুক্রবার (৫এপ্রিল)তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার প্রারম্ভিক ভাষণে একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় আগুন লাগলে এখন পাানি পাওয়া যায় না। অথচ, ঢাকায় এত খাল ছিল, এত পুকুর ছিল, অথচ এখন নাই। কজেই যারাই কোন স্থাপনা করবে সেখানে যেন জলাধার টিকে থাকে। আর পুকুর দেখলে তার মধ্যে দালান করা এটাও একটা প্রবণতা, যেটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দালানগুলো এমনভাবে বানানো হয় যে তার ফায়ার এক্সিট থাকে না, ইন্টেরিয়ার ডেকোরেশন করতে গিয়ে ফায়ার এক্সিট বন্ধ। সেখান দিয়ে কারো ওঠার উপায় নাই, নামারও উপায় নাই। মার্কেটগুলোতে ফায়ার এক্সিট মাল রাখার জন্য বা স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শেখ হাসিনা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ভবনের প্রতি ইঞ্চি জায়গা লাভজনক ব্যবহারের জন্য নিজেদের সর্বনাশটা যেন কেউ ডেকে না আনে। সর্বস্বান্ত না হন।’
শেখ হাসিনা অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, আমাদের ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স খুব দ্রুততার সাথে উদ্ধার কাজ চালিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি সাধুবাদ জানাবো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। তারা এগিয়ে এসেছে। ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছে, ফায়ার সার্ভিসকে রাস্তা করে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হঠাৎ দেখলাম আমেরিকা একটা সিকিউরিটি অ্যালার্ট দিয়েছে। কি কারণে তারা এলার্টটা দিল তারা সেটা কিন্তু আমাদের কাছে বলেও নি, ব্যাখাও দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘যদিও আমি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি গোয়েন্দাদের যে কি কারণে এলার্ট দিয়েছে তাদের কাছে কোন তথ্য আছে কি না। যদি কোন তথ্য থাকে, কোন ঘটনা ঘটতে পারে এমন যদি তাদের কাছে তথ্য থাকে তাহলে একটা দায়িত্ব আছে তাঁদের আমাদেরকে অন্তত সেই বিষয়টা জানানো। বা আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানানো। যেন আমরা তা মোকাবেলা করার ব্যবস্থা নিতে পারি। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ আগুন লেগেছে সেখানে- আগুন তো সব দেশেই লাগে। ওই আমেরিকাতেও একটা সার কারখানা থেকে শুরু করে হাসপাতাল সবই পুড়ে শেষ। কতজন মারা গেছে সেই খবর কেউ জানেও না। এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছে। লন্ডনে আগুন লেগে ৭০ জন মারা গেল। আরও যে কত লোক মারা গেছে সেটার হিসেবও নেই। সেখানে হিসেবও হয় না। উদ্ধার কাজও আমাদের মতো এতদিন কেউ চালায় না।
তিনি সন্ত্রাসকে কেবল বাংলাদেশ নয় সমগ্র বিশ্বের সমস্যা আখা দিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাস শুধু আমাদের দেশের নয়, সারা বিশ্বের সমস্যা। কিন্তু বাংলাদেশ অন্তত সফলতার সাথে এই জঙ্গিবাদ দমন করতে পেরেছে।
‘আমরা যথেষ্ট সজাগ, আমাদের ইন্টেলিজেন্স সব সময় সজাগ। আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারা সব সময় সর্তক। এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন যদি তাদের কাছে কোন তথ্য থাকে, তবে তাদের কর্তব্য আমাদের জানানো,’ যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিএনপি’র নির্বাচনে ভরাডুবি, যার নেপথ্যে মনোনয়ন বাণিজ্য এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের খতিয়ান তুলে ধরে বিদেশে অবস্থানকালীন তার রাজকীয় জীবন যাপনেরও কঠোর সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের তাদেও পরাজয় নিশ্চিত জেনেই প্রতিটি আসন নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।’
শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, ‘তার (তারেক) রাজকীয় জীবনযাপনের টাকা আসে কোত্থেকে? বিএনপি ক্ষমতায় থেকে যে লুটতরাজ করেছে, সেই অর্থ থেকেই তারেক লন্ডনে উচ্চবিলাসী জীবনযাপন করছেন।’
’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে বসে দেশবিরোধী রাজনীতি করছেন। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। বছরের পর বছর লন্ডনে থেকে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এদিকে সভায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে সাবেক পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটুকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে ।
রাতে আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ১৪ অক্টোবর ময়মনসিংহ পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনের উন্নীত হওয়ার গেজেট প্রকাশের পর, বিলুপ্ত হয় ইকরামুল হক টিটুর পৌরসভার মেয়র পদ। বাংলাদেশের দ্বাদশ এই সিটি করপোরেশনের আয়তন ৯১ দশমিক ৩১৫ বর্গকিলোমিটার। যার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২ হাজার ১০৯ জন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ৫ মে। ৮ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ১০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৭ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে।

Related posts