রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১১ মাঘ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

বেতনের পুরো টাকাই মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করলেন বঙ্গবন্ধু’র ভ্রাতুষ্পুত্র

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনার রাজনীতিতে সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল নতুন মুখ। খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত খুলনার রাজনীতিতে পদচারনা ছিলোনা বললেই চলে। সদা হাস্যোজ্বল এই মানুষটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র। নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত খুলনা অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি যে বেতন, ভাতা বা সম্মানী পান তার পুরোটাই মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করেন। সম্প্রতি তিনি ১০টি মসজিদের প্রত্যেকটিতে ৩০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। আর এই অর্থ সম্পূর্নই তার বেতনের। এই হৃদয়বান মানুষটি খুলনা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে তার ভাবনার কথা বলেছেন। তুলে ধরেছেন খুলনার উন্নয়নে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি খুলনার উন্নয়ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। যা অতীতে অন্য কোন সরকার করেনি। ইতোমধ্যেই খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর শামছুর রহমান রোডে ১৫তলা বিশিষ্ট বিভাগীয় কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ কাজ চলছে। রূপসায় ১০০০ আসনের বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। বটিয়াঘাটায় শেখ রাসেল ইকো পার্ক নির্মাণে ৭৭ কোটি টাকা, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরীর পাশে ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আইটি পার্ক প্রকল্পে বরাদ্দ, বায়তুল আমান, দ্বীলওয়ালি এবং নিরালা কবরখানা জামে মসজিদ উন্নয়নে মধুমতি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা অনুদান, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৩ লাখ, সোলার সিস্টেম বাবদ ৫১ লাখ, দুস্থ্য ও অসহায় মানুষদের মাঝে আড়াই লাখ, পবিত্র ঈদের আগে নির্বাচিত এলাকার সকল ওয়ার্ডে ঈদবস্ত্র ও নগদ অর্থ প্রদান, পাওয়ার হাউজ মোড় হতে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত শেরে বাংলা রোডকে চার লেনে উন্নতকরণে ১৭৭ কোটি টাকা, খুলনা শিশু হাসপাতালে গরীব অসহায় রোগীদের সু-চিকিৎসার্থে ১৫ কোটি টাকা সীড মানি দেয়া হয়েছে। খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প জিওবি ফান্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যেই প্রাচীর নির্মাণে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও খুলনার ভবিষ্যত নানা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে তিনি কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার রেলওয়েকে লাভজনক করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। খুলনায় আরো বিদ্যুৎ প্লান্ট করা হচ্ছে। খুলনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের প্রবৃদ্ধির হার ৮ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে। কাজেই দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এসব পজেটিভ সংবাদ বেশী করে প্রকাশ করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, খুলনা নগর উন্নয়নে যে অর্থ আনা হয়েছে এবং যে অর্থ আসবে তা দিয়ে খুলনাকে তিলোত্তমা নগরী গড়ে তোলা যাবে। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার পর খুলনার আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। যা অতীতের সকল সময়কে ছাড়িয়েছে। নগরবাসীর স্বার্থে পূজার পরেই রিকসা থেকে মোটর অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। ইজিবাইককে লাইসেন্স দিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ কাজ শুরু হয়েছে। কাষ্টমঘাট থেকে ফুলতলা পর্যন্ত যশোর রোডকে ডিভাইডারসহ চার লেনে উন্নত করা হবে। ভৈরব নদের পাড়কে শহররক্ষা বাধ নির্মাণসহ দৃষ্টিনন্দন পার্কের সদৃশ্য করা হবে। সেখানে নগরবাসী হাটাচলা করে নির্মল বায়ু নিতে পারবেন। এাছাড়াও মেরিন একাডেমী নির্মাণ, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টি মিডিয়া ক্লাস, সুপেয় পানি সরবরাহের স্বার্থে মোল্লাহাট থেকে পানি এনে শোধন করে সরবরাহ, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, খুলনাকে অর্থনৈতিক জোনে পরিণত করতে খুলনা-মোংলা, মোংলা-ঢাকা, খুলনা-যশোর এবং খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দু’পাশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠেছে। এই উন্নয়নযজ্ঞকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণ করছেন। খুলনা-মোংলা, মোংলা-সাতক্ষীরা, ঢাকা-মোংলা রেললাইনের কাজ চলছে।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল শারদীয় দুর্গাৎসব উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নগর সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, উন্নয়নের দিক দিয়ে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। যা চলমান থাকবে। নগরের আশপাশের নদী-খাল দখল উচ্ছেদ করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে।

মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হেলাল হোসেন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়া সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য এস এম কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Related posts