বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ তৈরি করছে চীন

এসবিনিউজ ডেস্ক: একটি উপগ্রহ চিত্র। রয়টার্সের হাতে আসা সেই ছবিতে দেখা গেছে, সাংহাইয়ের কাছে জিয়াংনান জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে একটি বিশাল বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ তৈরি করছে চীন। ছবিগুলো গত মাসের। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এত বড়ো রণতরী তাদের কাছে আগে ছিল না। ঐ নির্মাণকেন্দ্রের ছবি দেখে আরো বোঝা যায়, একাধিক যুদ্ধজাহাজ তৈরির প্রস্তুতি চলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ চীন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যেই বিমানবহনকারী যুদ্ধজাহাজটি তৈরি হয়ে যাবে। জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রের পাশাপাশি ইয়াংজয়ে নদীর পাশে একটি বিরাট বন্দরও নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। একটি ছোটো ভেঙেপড়া বন্দরের পাশে যা চোখে পড়ার মতো। সব দেখে-শুনে অনেকেই মনে করছেন, খুব শিগগিরই নিজেদের নৌবহরে নতুন পালক যোগ করতে চলেছে চীন।

সিএসআইএসের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, বন্দর আর জাহাজ নির্মাণের কাজ যেভাবে একই সঙ্গে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তা দেখে এটা স্পষ্ট যে নিজেদের নৌবাহিনী নিঃশব্দে ঢেলে সাজাতে চাইছে বেইজিং। বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মার্কিন প্রশাসন। তবে পূর্ব এশিয়ায় তাদের নৌবাহিনীর যে আধিপত্য রয়েছে, তা আর বেশি দিন থাকবে না ভেবে রীতিমতো আশঙ্কায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ওয়াশিংটনের চিন্তার আরো কারণ রয়েছে। তাইওয়ানের সঙ্গে সদ্য সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সলোমন আইল্যান্ডস। আর সেই সুযোগে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দেশটির একটি আস্ত দ্বীপ লিজ নিয়েছে চীনের একটি সংস্থা। কূটনীতিকরা যাকে গোটা প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় চীনের আধিপত্য বিস্তারের একটি অন্যতম প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে। সেই তাইওয়ানের সঙ্গে এত দিন ভালো সম্পর্ক ছিল সলোমন আইল্যান্ডসের। খুব সমপ্রতি তাইপেইয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খারাপের দিকে যায়। আর তার পরে গত মাসে সলোমন আইল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মানাসে সোগাভারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। একটি ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, চায়না স্যাম নামে চীনের একটি সংস্থা সলোমন আইল্যান্ডসের টুলাগি দ্বীপটি লিজ নেয়। এই টুলাগিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানের নৌঘাঁটি ছিল। বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে ঐ দ্বীপে মাছের প্রজনন ও নানা ধরনের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বললেও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তারই তাদের লক্ষ্য।

Related posts