বুধবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ❙ ১১ মাঘ ১৪২৯

বিধ্বস্ত খুলনা, বিমর্ষ মাহমুদউল্লাহ

স্পোর্টস ডেস্ক:একের পর এক ম্যাচ হার। দলের করুণ পরিণতি। দশ ম্যাচে আট পরাজয় নিয়ে সবার আগে বিপিএল থেকে ছিটকে গেছে খুলনা টাইটান্স।

দলের এমন বিপর্যয়ের কোনো ব্যাখ্যা নেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে। পুরো দল পারফরম্যান্সের অভাবে বিধ্বস্ত। ড্রেসিং রুমের পরিবেশ শুনশান। নুন্যতম লড়াই করতে না পারায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও বিমর্ষ। ব্যর্থতার পুরো দায় নিয়েছেন অধিনায়ক।

তবে পুরো দলের শারীরিক ভাষাতেই স্পষ্ট দলের ভেতরেআত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, ম্যাচ জয়ের নেই কোনো ‘এক্স ফ্যাক্টর’, নেই বড় কিছু করার তাড়না। সঠিক কম্বিনেশন না পাওয়ায় প্রতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন, স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স তলানিতে, বিদেশি ক্রিকেটারদের থেকে পাওয়া যায়নি আশানুরূপ অবদান। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও জ্বলে উঠতে পারেননি। রিটেইন করা ক্রিকেটাররা ভরসা হতে পারেননি। কাজে দেয়নি কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনের অভিজ্ঞ মস্তিস্কের পরিকল্পনা। সব মিলিয়ে পুরো দলের অবস্থাই ছন্নছড়া!

‘আমরা টুর্নামেন্ট থেকে আউট। সুপার ফোরের কোন সুযাগ নেই। খুবই হতাশাজনক অবশ্যই। বিশ্লেষণ করা কঠিন এমন বিপর্যয়ের। প্রথম পাঁচ বা ছয় ম্যাচের মধ্যে আমরা কয়েকটা ক্লোজ ম্যাচ জিততে পারতাম, তখন হয়তো পয়েন্ট টেবিলে ভিন্নরকম হতো। আমাদের আত্মবিশ্বাস তখন বেশি থাকতো। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আমরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং কোনো বিভাগেই ভালো করতে পারিনি। কোনো বিভাগেই কোন কিছু হচ্ছে না। নিজেরা কথা বলার চেষ্টা করেছি, সমস্যা বের করার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। কেউই দলের জন্য অবদান রাখেতে পারছে না। এটা দলের জন্য হতাশাজনক।’ – বলেছেন মাহমুদউল্লাহ।

শুরুর চার ম্যাচে কোনো জয় ছিল না খুলনার। পঞ্চম ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আরিফুল, শান্ত, জুনায়েদ সিদ্দীকিরা। কিন্তু ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম ম্যাচে আবার হার। নবম ম্যাচে সিলেটকে হারিয়ে লড়াইয়ে টিকে ছিল মাহমুদউল্লাহর দল। কিন্তু আজ সিলেটের কাছে ৫৮ রানের হারে সব হিসেব গুলিয়ে বিপিএলের ইতি টেনেছে শেষ দুই আসরে সুপার ফোরে খেলা খুলনা।

খুলনার টুর্নামেন্টে ভালো না করার সবথেকে বড় দায় দিতেই হবে রিটেইন করা ক্রিকেটারদের ওপর। আরিফুল হক (১০ ম্যাচে ১৩২ রান), নাজমুল ইসলাম শান্ত (৮ ম্যাচে ১০০) এবং অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ (১০ ম্যাচে ১৯৪ রান) নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছেন। পাশাপাশি খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়া ক্রিকেটাররা অন্য দলে এবার দিব্যি পারফরম্যান্স করছে। শফিউল ইসলাম, আফিফ হোসেন, বেনি হাওয়েল, রাইলি রুশো ও আবু জায়েদ রাহী ভালো পারফরম্যান্স করছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের আগে টিম ম্যানেজম্যান্টের পরিকল্পনায় কোনো ঘাটতি কি ছিল? মাহমুদউল্লাহ এমনটা মানতে নারাজ।

‘না, আমার মনে হয় না ওই ধরনের কোনো কারণ ছিল। দল যথেষ্ট ভালো করা হয়েছিল। যদি স্থানীয় ক্রিকেটারদের কথা বলেন বেশ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নেওয়া হয়ছিল। জুনায়েদ অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছে। শান্ত প্রতিভাবান ক্রিকেটার। আরিফুল শেষ দুই বছর ধরে ভালো খেলেছে। জহুরুল অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। বোলিং সাইডেও আমাদের বৈচিত্র্য ছিল। ভালো অলরাউন্ডার ছিল। আসলে কোন দিক থেকেই আমরা দলের জন্য অবদান রাখতে পারিনি।’

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বিমর্ষ মাহমুদউল্লাহ বলেছেন,‘সবাই খুব হতাশ ড্রেসিংরুমে। আমরা ক্রিকেট খেলি, ভালোবাসি ক্রিকেট। ক্রিকেট আমাদের রুটি-রুজি।গত দুইটা বছর ভালোই পারফরম্যান্স করেছি এ দলটির জন্য। এ বছরটা কোনোভাবেই আমি অবদান রাখতে পারিনি। যেভাবে আমি লিড করতে চাইছিলাম, ওভাবে করতে পারছি না। আমারো কিছু কিছু ভুল ছিল। ওভারঅল এটা পুরো দলে প্রভাব ফেলেছে।’

বিপিএলে নিজেদের সফর শেষ হলেও খেলতে হবে আরও দুই ম্যাচ। দুটি ম্যাচই বড় দলের বিপক্ষে। একটি কুমিল্লার বিপক্ষে, আরেকটি ঢাকার। টুর্নামেন্ট শেষ হলেই এ ট্রমা থেকে মুক্তি মিলবে মাহমুদউল্লাহদের। তবে এখনই গুটিয়ে নিতে চান না তিনি। শেষটা অন্তত রাঙাতে চান খুলনার অধিনায়ক।

‘টেবিলের নিচে থাকলে এই ধরনের (টুর্নামেন্ট শেষ) চিন্তা ধারা আসতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওভাবেই চিন্তা করছি না। আমাদের হাতে এখন দুটি ম্যাচ আছে। ইনশাল্লাহ যদি জিততে পারি, তাহলে হয়তো ভালো কিছু দিয়ে শেষ করতে পারব। জয়টা অবশ্যই খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ সূত্র: রাইজিংবিডি ডট কম

Related posts