মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২৪ মাঘ ১৪২৯

বাংলাদেশকে ভারতের তৃতীয় দফায় চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান

বিশেষ প্রতিনিধি: করোনা মোকাবেলায় ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে তৃতীয় দফায় চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে ভারতীয় হাউ কমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের কাছে চিকিৎসা সামগ্রী আরটি-পিসিআর কেভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট হস্থান্তর করেন। এর মাধ্যমে ৩০হাজার পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

এর আগে ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় চালানে বাংলাদেশকে ১লাখ পিস হাইড্রোক্সিলক্লোরোকুইন ও ৫০ হাজার জীবানুমুক্ত সার্জিক্যাল ল্যাটেক্স গ্লোভস দেয়া হয়।  প্রথম চালানে ছিল ৩০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক ও ১৫ হাজার হেড-কভার সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত ২৯ এপ্রিল করোনা মোকাবেলা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে এই মহামারীর প্রভাব হ্রাস করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ভারতের পক্ষ থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এদিকে কিট হস্থান্তরকালে ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ জানান, এই আরটি-পিসিআর শনাক্তকরণ কিটগুলি ভারতের  ‘মাই ল্যাব ডিসকভারি সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড’ দ্বারা উৎপাদিত এবং কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য ভারতে বহুল ব্যবহৃত। এ সময়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই শনাক্তকরণ কিট প্রাপ্ত প্রথম অংশীদার দেশ যা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের  প্রতি ভারতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ নীতির অংশ হিসেবে এবং কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে একটি সহযোগিতামূলক আঞ্চলিক প্রচেষ্টার লক্ষ্যে ১৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সার্ক নেতাদের নিয়ে একটি ভিডিও কনফারেন্স করেছিলেন।

এ সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন মহামারী সংক্রমণের পর তিন দফায় ভারতের সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, শনাক্তকরণ কিটগুলি বাংলাদেশে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে যা এই মুহূর্তে খুব প্রয়োজন। সার্ক কোভিড-১৯ জরুরি তহবিলের আওতায় কোভিড-১৯এর বিস্তার রোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবহার উপযোগী এই পরীক্ষার কিটগুলি বাংলাদেশ সরকারকে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। আরটি-পিসিআর পরীক্ষার কিটগুলি বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণায় ভারতের ১০ মিলিয়ন ডলার প্রাথমিক সহায়তা নিয়ে সার্ক কোভিড-১৯ জরুরি তহবিল গঠিত হয়। এই তহবিলের অধীনে ৩০হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ১৫ হাজার হেড-কভার সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সহায়তার প্রথম চালান ২৫ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আবদুল মোমেনকে হস্থান্তর করা হয়। ২৬ এপ্রিল ১ লাখ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট এবং ৫০ হাজার জীবাণুমুক্ত সার্জিকাল ল্যাটেক্স গ্লোভস সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সরবরাহের দ্বিতীয় চালানটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্থান্তর করা হয়।

ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানায়, ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় অনলাইন কোর্স পরিচালনা করে সার্ক দেশগুলির চিকিৎসা পেশাজীবীদের সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে ভারত। এই জাতীয় দু’টি e-ITEC কোর্স ১৭-২১ এপ্রিল রায়পুরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) এবং ২৭ এপ্রিল ও ৬ মে  চন্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন এন্ড রিসার্চ কর্তৃক পরিচালিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৫০ জনেরও বেশী স্বাস্থ্য পেশাজীবী এ কোর্সগুলো দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। বর্তমানে, বাংলাদেশী অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ই-আইটিইসি কোর্সের আয়োজন  নিবন্ধন চলছে। এই কোর্সটি ১২-১৩ মে  পর্যন্ত ভূবনেশ্বরের অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ  মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) কর্তৃক বাংলাভাষায় পরিচালিত হবে।

Related posts