বুধবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ❙ ১১ মাঘ ১৪২৯

বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবে ‘সোনালি ব্যাগ’

এসবিনিউজ ডেস্ক: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছেন, খুব দ্রুত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সোনালি ব্যাগ উৎপাদন শুরু হবে। বিশ্বে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবে পাট থেকে উৎপাদিত সোনালি ব্যাগ। সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের উৎপাদন ও বহুমুখী ব্যবহারকে উৎসাহিত করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করার মাধ্যমে পাট চাষীদের স্বপ্নপূরণে জোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। সরকার কাঁচা পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন বর্জন করার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পাটকে বিশ্ব বাজারে তুলে ধরতে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) এ ২৩৫ প্রকার পাটপণ্যের স্থায়ী প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারকোল, ভিসকোস, পাটপাতার পানীয়সহ বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার জোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে ।
বুধবার (২৩ জানুয়ারি) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সাথে সোনালি ব্যাগের উদ্ভাবক ও বিজেএমসি’র বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সোনালি ব্যাগের নমুনা হস্তান্তরকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন ।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত পলিথিনের বিকল্প পচনশীল সোনালি ব্যাগ দেখতে প্রচলিত পলিথিনের মতোই হালকা, পাতলা ও টেকসই। পাটের সুক্ষ¥ সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে এ ব্যাগ তৈরি করা হয়েছে। পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ মাটিতে ফেললে তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। ফলে পরিবেশ দূষিত হবে না। এ ব্যাগ দামে হবে সাশ্রয়ী। এভাবে পাটের ব্যবহার বাড়লে ন্যায্য দাম পাবে কৃষক। অতীতের মতোই বাংলাদেশ পাট দিয়েই বিশ্বব্যাপী পরিচিত হবে।
বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) এর তত্ত্বাবধানে পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ তৈরির প্রকল্প উদ্বোধন করা হয় ১২ মে ২০১৭। উদ্ভাবিত সোনালি ব্যাগ পাইলট প্রকল্প পর্যায়ে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি। রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে সোনালি ব্যাগ তৈরির প্রাথমিক পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। তবে বৃহৎ পরিসরে নতুন উদ্ভাবিত সোনালি ব্যাগ তৈরিতে দেশে বা বিদেশে কোনো মেশিন তৈরি হয়নি।
আবিষ্কৃত এ ব্যাগের ভার বহন ক্ষমতা পলিথিনের প্রায় দেড়গুণ এবং এটি পলিথিনের মতোই স্বচ্ছ হওয়ায় খাদ্য দ্রব্যাদি ও গার্মেন্টস শিল্পের প্যাকেজিংয়ের উপযোগী। এ ছাড়া দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করায় এই ব্যাগের দাম প্রচলিত পলিথিন ব্যাগের কাছাকাছিই থাকবে।
পরে মন্ত্রী সোনালি ব্যাগের উদ্ভাবক ও বিজেএমসি’র বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক হোসেনের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

Related posts