রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

Select your Top Menu from wp menus

প্রসঙ্গ: নারী-পুরুষের বৈষম্য বিলোপ

মো: মোশারেফ আলী সোহেল
প্রাককথন
শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা দুনিয়া জুড়েই, জন্ম থেকেই নারী বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। তার বেড়ে ওঠার প্রতিটি স্তরেই তার মর্যাদা হরন হয়, অনিরাপদ হয় তার জীবন, অধিকার আদায়ের লড়াই করতে হয় তাকে ব্যক্তিক ও সামাজিক পর্যায়ে। বিশ্বব্যাপী নারীকে নিয়ে তাই নানা দিবস পালিত হয় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে। ৮মার্চে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস, বিশ্ব গ্রামীন নারী দিবস ১৫ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন নির্মূল দিবস ২৫ নভেম্বর, আমাদের দেশে রোকেয়া দিবস পালিত হয় ৯ ডিসেম্বর।
নারীচিত্রঃ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্বিক
আমাদের দেশে নারীসমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক মনস্তাত্বিক অন্তরায় রয়েছে অনেক। শুরু থেকে পারিবারিক ভাবে নারীমননে এমন একটি ধারণা প্রথিত হয়ে যায় যে, নারী সকল স্তরে পুরুষের অধ:স্তন। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে তার কোন কর্তৃত্বই থাকেনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। তার ভূমিকা হচ্ছে গৃহিনীর, পরোক্ষভাবে গৃহদাসত্বের। পারিবারিক এ ভূমিকাকে নানা কথায় চিত্রিত করেছেন পন্ডিতজন। বলা হয়েছে পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে ঐতিহাসিকভাবে নারীকে প্রথম ঘরোয়া ঝি হিসেবেই বিয়ে করে আনা হয়। ‘পুরুষ বিয়ে করে, নারীকে বিয়ে দেয়া হয়। পুরুষ হচ্ছে বুর্জোয়া, স্ত্রী প্রলেতারিয়েত’ ইত্যাদি। এগুলো সব তীক্ষ্ম মন্তব্য কিন্তু একেবারেই যে অসত্য তা নয়। এজন্য নারী বিকাশের প্রথম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে তার নিজ পরিবার-এখানে প্রায় ক্ষেত্রেই নারীই নারীর প্রতিপক্ষ। তবে দীর্ঘকালের এ লালিত অপসংস্কৃতি- প্রথা -রীতিকে ভাঙ্গতে এগিয়ে আসতে নেতৃত্ব দিতে হবে পুরুষকেই। পরিবারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পুরুষকেই সর্বপ্রথমে যৌক্তিক, মানবিক ও পরিবাবের নারী সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আর এজন্য পুরুষের কর্তৃত্বপরায়ণ এ মনস্তাত্বিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের নিরন্তর অধিপরামর্শ ও শিক্ষাপ্রদান জরুরি।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ে আছে নারীসমাজ। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্র তথা পার্লামেন্ট তো বটেই, রাজনৈতিক দলগুলোও নারী অধিকার বঞ্চিত। গণপ্রতিনিধিত্ব (আর পি) আদেশ অনুযায়ী সব রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব অন্তর্ভূক্ত করার বিধানের কথা বলা হয়েছে। দলের সকল কমিটিতে ন্যুনতম ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বিধান থাকলেও তা মানা হয় না। স্থানীয় সরকারে নারীর অবস্থান আরও করুণ। সংরক্ষিত আসন ছাড়া সাধারণ আসনগুলোতে নির্ধারিত সদস্য প্রায় অনুল্যেখ্য। রাজনৈতিক অঙ্গণে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের পর্যায়ে এমন হতাশাজনক চিত্র নারীর ক্ষমতায়নের পথে বড় ধরনের অন্তরায়। এখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এজন্য গনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মান্য করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্যোগী হয়ে তাদের বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নারীরা সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। জাতীয় সংসদে কোরাম সংকট হয় সাধারণ আসনের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে। এক্ষেত্রে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা অনেকবার সংকট উৎরাতে সহায়তা করেছে। সেজন্য তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত নারী অংশগ্রহণ কার্যকর না হলে গণতন্ত্র সুসংহত যেমন হবে না তেমনি রাষ্ট্রের কাঠামোও দৃঢ়ভিত্তি পাবেনা।
নারীর ক্ষমতায়নের একটা বড় জায়গা হচ্ছে অর্থনীতিতে কর্তৃত্ব ও সম্পদে অভিগম্যতা। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি হচ্ছে অর্থনীতিরই সঞ্জীবিত প্রকাশ। অর্থনৈতিক ক্ষমতা না থাকলে রাজনীতিও করায়ত্ব হয়না। তবে জাতীয় অর্থনীতিতে আমাদের দেশের নারী সমাজের প্রচুর অবদান-যা সুপ্তই থেকে যায়। বিশেষ করে কৃষিকর্মের প্রায় অর্ধেকই করেন গ্রামীন নারী। গৃহস্থালি কাজের আর্থিক হিসাব তো করাই হয়না এবং জিডিপিতেও তাই এর অন্তর্ভূক্তি নেই। কৃষিক্ষেত্রে বীজ সংরক্ষণ, জৈবসার ব্যবস্থাপনা, সবজি বাগান, শস্য মাড়াই, তুষ ছাড়ানো, গোলাঘর সংরক্ষণ, গুদামজাত করনে নারীর ভূমিকা অগ্রগন্য। হাসমুরগি, গবাদিপশু পালন ও রক্ষণাবেক্ষণ নারীই সম্পন্ন করে। গ্রামীণ এ অর্থনীতি ছাড়াও শহর অঞ্চলে এখন নারী শ্রমের ব্যাপ্তি হচ্ছে, তবে এতসব সত্বেও নারীর এ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন হয়না পরিবার ও সমাজে পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্বের কারনে নারী যে আয় কওে তা ব্যয়ের অধিকারও সে পায়না। সম্পদে কোন অভিগম্যতাও নেই। এফ এ ও-র হিসাব মতে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনে নারীর অংশগ্রহনের হার ৪৫ দশমিক ৬ কিন্তু অভিগম্যতার হার মাত্র ২ শতাংশ।
সম্পদে নারীর ন্যায্য পাওনা ও ভোগের ক্ষমতা প্রদানে আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থা ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা সবচেয়ে বড় অন্তরায়। ১৯৮৪ সালে সিডও সনদ বাংলাদেশ অনুমোদন করলেও নারীর ক্ষমতায়ন ও সম্পদে অধিকার বিষয়ক কয়েকটা ধারা সংরক্ষিত রাখে। ক্রমাগত আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে সনদের ধারা ১৩(ক) ও ১৬-১(চ) থেকে আপত্তি প্রত্যহার করলেও ২ এবং ১৬.১৩৫৯ুদ(গ) ধারায় আপত্তি বহাল আছে তবে আশার কথা হলো ২ ধারায় নারী পুর”ষের সমতা স্থাপন ও বৈষম্য বিলোপের জন্য আইন সংস্কার চলছে ফলে সরকার এ ধারার আপত্তি এখন উপেক্ষা করছে। ধর্মবেত্তা নামধারী ধর্ম ব্যবসায়ীদের বাধা রাজনৈতিক কারণে সরকারের পক্ষে উপেক্ষা করা কঠিন হচ্ছে। এ টানাপোড়োনে নারী অধিকার বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।
নারীর অধিকারহীনতায় নারীসমাজের নিজেদেরই মনস্তান্তিক দীনতা একটা বড় প্রতিবন্ধক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মননগতভাবে নারী নিজেকে পুরুষেরা অধ:স্তন মনে করে। বেশিরভাগ নারী মনে করে তার জম্ম শুধু একজনের (পুরুষ) ভোগ ও ব্যবহারের জন্য। নারী সেটা মেনে নিয়ে নিজেকে শুধু নারী হিসেবে দেখে-মানুষ নয়। নিজেকে সম¥ান করতে ভুলে যায়, আত্মমর্যাদাহীন হয়ে পড়ে, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। মনোজগতিক এ দেউলিয়াত্ব ভয়ংকর। এ ঘেরাটোপের অবগুন্ঠনে আটকা থাকলে নারীকে জাগানো কঠিন। এ অবস্থায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের সুবিধার জন্য বানানো বিধান ধর্মের অপব্যাখ্যার সত্যানুসন্ধান করতে হবে নারীকেই। মনুষ্যসমাজে তার অবস্থান, মর্যাদা তার পোষাক নিয়ে ধর্মবেত্তারা ধর্মগ্রন্থের অপব্যখ্যা দিয়ে যে ধুু¤্রজালে আটকে তাকে বিভ্রান্ত করে ফেলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা তার নিজেরই থাকতে হবে।
নারী নির্যাতন
নারী নির্যাতিত হয় সবদিক থেকেই। দৈহিক, মনস্তাত্বিক উভয়ক্ষেত্রেই নির্যাতনের শিকার হয় নারী। দৈহিক নির্যাতন নানা রকমের। পুরুষেরা শারিরিকভাবে শক্তিধর হওয়ায় নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন হয় খুব বেশি। এক্ষেত্রে পারিবারিক সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোনে তার প্রভুত্ববাদ নির্যাতন করার ক্ষেত্রে তাকে সিদ্ধান্ত দেয়। দূর্বল নারী মেনে নেয় তা। এ ধরনের দৈহিক নির্যাতনের কারণও নানা রকম। যৌতুক, দেহভোগ ছাড়াও নারী যদি পারিবারিক বা তার নিজের ক্ষেত্রে কোন স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে নারী নিগ্রহের শিকার হন। ফতোয়াবাজরা নোংরা মতলব হাসিলের জন্য ধর্মীয় অপব্যখ্যা দিয়ে নারী নির্যাতন করে। মাদ্রাসার নারী শিক্ষার্থী অহরহ লেবাসধারী শিক্ষক দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় যার খুব অল্পসংখ্যাই গণমাধ্যমে আসে। চাকরির টোপ দিয়ে নারীপাচার হয় বিদেশে। সেখানে চরমভাবে লাঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়। দেশের অভ্যন্তরে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে প্রায়শঃ । এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয় প্রতিবাদ হয়। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনও আছে কিন্তু প্রয়োগিক জায়গাটা দূর্বল। কারন দায়িত্বশীল পদে যারা থাকেন তাদেরও নারীর প্রতি দৃষ্টি ভঙ্গিগত অবস্থানটিও পুরুষতান্ত্রিক। তাই বিচারেও ঘাটতি কিংবা দীর্ঘ সূত্রিতা। তাই নির্যাতনের মাত্রা কমছেনা। এখানে পারিবারিক সামাজিক সচেতনতা যেমন দরকার তেমনি শাসন ও বিচার ক্ষেত্রের কঠোরতা এবং তড়িৎ শাস্তিদানও গুরুত্বপূর্ণ।
আলোর পথে
তবে সব কিছুই এক্কেবারে হতাশার নয়। কিছু আলোও আছে, আশাব্যাঞ্জক দৃশ্যও রয়েছে। খুব ধীরে হলেও দিনবদল হচ্ছে বাংলাদেশের নারী এখন জীবনের ক্যানভাসে দৃশ্যমান। ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম তথ্য দিচ্ছে এশিয়ার লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় স্থানে, দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে। গে¬াবাল জেণ্ডার গ্যাপ সূচকে ১৪৪ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭ তম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০ বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন। গত শতাব্দীর শেষ দশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নারী উন্নয়ন নীতিমালা তৈরী করে এবং সেটাই পরিক্ষীত হয়ে নবর”পে প্রনীত হয় ২০১১ সালে। ২০১৫ সালে সমাপ্ত এমডিজি’র সমাপনীতে জেণ্ডার ইস্যুতে ঈর্ষনীয় সাফল্য দুনিয়া জুড়ে প্রশংসা কুড়োয়। তারই ধারাবাহিকতায় এখন এস ডি জি’র অভিষ্ঠ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।
অনেক আশাব্যাঞ্জক তথ্য উপাত্ত রয়েছে এক্ষত্রে। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের অনুপাত ৬০ এর বেশী। ২০০৮ এ প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্রী ছিলো মোট শিক্ষার্থীর ৫৭ শতাংশ। ২০১৭ তে তা ৯৬ তে উন্নীত। মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রের চেয়ে বেশী। ২০০৭ এ শ্রম বাজারে নারী ছিলো ২৯.২ শতাংশ। ২০১৭ তে ৩৬। তৈরী পোষাক শিল্প তো নারী শ্রমিক কেন্দ্রিক। ৪২ লক্ষের বেশী নারী শ্রমিক এ খাতে কর্মরত। নারী উদ্যোক্তা তৈরীর লক্ষ্যেও কাজ করছে সরকার। জয়িতা ফাউণ্ডেশন আঠারো হাজারের মত নারী উদ্যেক্তাকে পৃষ্ঠপোষণ করে। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অগ্রসরতা লক্ষ্যনীয়।
পেশাদারী নারী এখন ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। মাতৃমৃত্যুর সংখ্যা প্রতি লক্ষে ২৪২ ছিলো ২০১০ এ, এখন ১৭০ এর নীচে। নারী স্বাস্থ্যসেবায় ১৩ হাজার মেটারনিটি সেন্টার এবং ৩০ হাজার স্যাটেলাইট ক্লিনিক তৈরী করা হয়েছে।
পৈত্রিক সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সন্তানের নামের পাশে পিতার নামের সাথে মা’র নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের অনেক স্বীকৃতি মিলেছে। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী প্যারিসের ডফিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদক পান। ২০১৪ সালে ইউনেস্কোর ট্রি অফ পিস এ্যাওয়ার্ড; ২০১৬ সালে জাতিসংঘ উইমেন্স প¬ানেট ৫০-৫০ চাম্পিয়ন এ্যাওয়ার্ড, একই বছর গে¬াবাল পার্টনারশীপ এ্যাওয়ার্ড ২০১৮ তে সিডনী থেকে গে¬াবাল উইমেন্স লিডারশীপ এ্যাওয়ার্ড, ২০১৯ সালে জার্মানীর ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেনের আজীবন সম্মাননা ‘উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট এ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেষ কথা
এটা সুস্পষ্ট যে, নারী অসহায়ত্বর শিকড় অনেক গভীরে প্রথিত এবং সুদীর্ঘ কালের। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নারী-পুরুষ উভয়েরই দৃষ্টিভঙ্গী ও মনোজাগতিক আনুকূল্য। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠালাভ হয় দৈহিক শক্তির শ্রেষ্টত্বের সময়ে। এখন মেধাশক্তির যুগ। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মেধাই মুখ্য মেধারই কর্তত্ব। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে মেধা চর্চার সমান সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর এ অভিযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা যেখান থেকেই আসুক, তা সে সামাজিক কুপ্রথা, কুসংস্কার, পুর”ষের দৈহিক শক্তি প্রয়োগ, ধর্মব্যবসায়ীদের বাধাসৃষ্টি, নারী-পুরুষ উভয়েরই মনোবৈকল্য, হীনমন্যতা- যা ই হোকনা কেন তাকে মাড়িয়ে যেতে হবে। নারীকেও তার আত্মশক্তির ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, আত্মমর্যাদা পুরুষের ইচ্ছা বা নির্দেশের কাছে বিকিয়ে দেওয়া যাবেনা। একইভাবে পুরুষকেও নারীর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। নারীর সমাজভিত্তিক ক্ষমতায়নে অনুকূল ভূমিকা রাখতে হবে। পুরো বিষয়টা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের। নারী পুরুষে বিভক্তি নয়, মানুষ হিসেবে ভাবতে শেখাটা জরুরী।

Related posts