বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

‘প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যগত দিকগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে’

ড. নাসরিন সুলতানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য অর্থনীতির এ গবেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি গ্রহণের পর বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদে কাজ শুরু করেন। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। তিনি স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ গবেষক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষক হিসেবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় একটি দৈনিকের সঙ্গে তিনি উন্নয়ন, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, ভবিষ্যৎ ঝুঁকিসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

ঢাকায় বিষণ্ন মানুষের সংখ্যা ৭১ শতাংশ। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বিগ্নতা কেন বাড়ছে বলে মনে করেন?

আমাদের দেশের শহরগুলোয় যত মানুষ বসবাস করে, তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৬%) শুধুঢাকাতেই বাস করে; যার সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। সম্প্রতি বিআইডিএস একটি গবেষণার মাধ্যমে ঢাকা শহরের জনগণের জীবনধারার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেছে। ওই গবেষণার ফলাফলে ঢাকাবাসীর অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা তথ্য উঠে এসেছে। বিআইডিএসের গবেষণার ফাইন্ডিংসটা আমি দেখেছি। তারা উদ্বিগ্নতা বা বিষণ্নতা পরিমাপের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, তাকে ইউরোকল-ফাইভ ডি (ইকিউ-ফাইভডি) বলা হয়। ফাইভ ডি মানে হলো ফাইভ ডাইমেনশন। এর পাঁচটি দিক রয়েছে। এগুলো হচ্ছে সচলতা (মোবিলিটি), নিজেরযতœ নেয়া (সেলফ কেয়ার), স্বাভাবিককাজ করা (ইউজুয়াল অ্যাক্টিভিটি), যন্ত্রণাবা অস্বস্তি (পেইন/ডিসকমফোর্ট) এবং উদ্বিগ্নতা বা বিষণ্নতা (অ্যাংজাইটি/ডিপ্রেশন)। বিআইডিএসের গবেষণায় দেখা যায়, ২৭ শতাংশ ঢাকাবাসী কোনো না কোনো যন্ত্রণা বা অস্বস্তিতে আছে, ৪৪ শতাংশ উদ্বিগ্নতা বা বিষণ্নতায় ভুগছে। এ দুটি পরিসংখ্যান যোগ করলে দাঁড়ায় ৭১ শতাংশ, অর্থা ঢাকার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো অস্বস্তি ও উদ্বিগ্নতায় ভুগছে। আসলে দীর্ঘকালীন অপ্রাপ্তির সঙ্গে অন্যান্য উপাদান যোগ হলে তখন বিষণ্নতা তৈরি হয়।

অস্বস্তি ও বিষণ্নতা তৈরির বহু কারণ রয়েছে। মানুষের শ্রেণী-পেশা বা বয়সভেদে অস্বস্তি বা বিষণ্নতা তৈরির কারণগুলোও ভিন্ন ভিন্ন হয়। যুবসমাজে বিষণ্নতা তৈরির প্রধান কারণ হচ্ছে বেকারত্ব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার, মাদকাসক্তি ইত্যাদি। যুবসমাজের বেকারত্বের কারণে অভিভাবকরাও বিষণ্নতায় ভুগছেন। নৈতিকতার অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতির চর্চা সামাজিক বিষণ্নতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক জ্যাম, বায়ুদূষণ, সুশাসনের অভাব, বৈষম্যমূলক আয়বণ্টন, নারীর প্রতি সহিংসতা—এসব কারণে ঢাকাবাসী বিষণ্নতায় ভুগছে বলে মনে করি। তাছাড়া ‘ওরআছে আমার নেই’—যাকে ডেমোনস্ট্রেশন ইফেক্ট বলা হয়। এ কারণেও বিষণ্নতা বাড়ে।

উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যগত দিকগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কিনা?

আমি মনে করি, উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যগত দিকগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কেননা স্বাস্থ্যগত দিকগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন পরিমাপের বেশকিছু পরিমাপক রয়েছে, যেমন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি—বাংলাদেশে এ সূচকগুলো মোটামুটি ভালোর দিকে যাচ্ছে। তবে উপার্জন বাড়লেও মানুষের হতাশা থাকতে পারে। উন্নয়নের সঙ্গে বিষণ্নতার ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটোরই সংযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের যখন আয় বেশি হয়, তখন তারা চায় বিভিন্ন বিনোদনমূলক ক্রিয়াকর্মে যুক্ত হতে। ছুটির দিনগুলোয় হয়তো পরিবারসহ বাইরে যেতে চাইবে। কিন্তু ঢাকা থেকে বাইরে যাওয়ার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বড় ধরনের ট্রাফিক জ্যাম। সেখানে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে বায়ুদূষণ। বিকালে ভালো একটা পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে মানুষ স্বচ্ছন্দে সময় কাটাবে- এমন কোনো উপায় নেই।

যানজট, দূষণ, রাস্তাঘাটের সমস্যা, খোলা পরিসরের অভাব, শিশুদের খেলার মাঠের অভাব, ফুটপাত চলাচলের অযোগ্য- এসব ছাপিয়ে আরো যে বিষয়গুলো রয়েছে তা হলো, আমরা যে জিনিসগুলো খাচ্ছি, তা কতটা স্বাস্থ্যকর? আমরা খাদ্যকে ভেজালমুক্ত করতে পারছি না। মানুষের আয় বাড়ছে, তবে আয় বৃদ্ধির প্রান্তিক উপযোগিতা নেই। উন্নয়নটা হতে হয় সামগ্রিক, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই হবে না। সামাজিক ও নৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সমানভাবে উন্নতি করতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য সূচকগুলো বাড়ছে কিন্তু কী হারে বাড়ছে, সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। দেশে ভ্যাকসিনেশনের হার প্রায় শতভাগ। মাতৃমৃত্যু হার কমেছে, পাঁচ বছরের নিচের শিশুমৃত্যু হার কমেছে। তবে একই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য ব্যক্তির নিজ পকেট থেকে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের উপার্জন বাড়ছে, আমরা ভালো স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের চেষ্টা করছি। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছে। যেহেতু মানুষের আয় বাড়ছে, তারা মানসম্পন্ন সেবা নিতে চাইছে। আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো মানুষের চাহিদা মেটাতে পারছে না। সরকারি হাসপাতালগুলোয় সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ ওয়েটিং টাইমের (অপেক্ষার সময়) কারণে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোয় কতক্ষণে আমরা সেবা পেতে শুরু করব, তা আমরা জানি না। ফলে যার কাছে টাকা আছে, সে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে দ্রুত সেবা নিতে পারছে। সুতরাং প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যগত দিকগুলোয় আরো ভালোভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যগত সমস্যা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলো কতটা মারাত্মক হবে বলে আপনি মনে করেন?

বিআইডিএসের গবেষণা অনুসারে, ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের মোট উপার্জন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে সবচেয়ে দরিদ্রদের মোট আয়ের ৬৭ শতাংশ স্বাস্থ্য খরচ হিসেবে ব্যয় করতে হয়। যদি আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে, স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে নিজের পকেট থেকে খরচ বাড়ে, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বোঝাটা বেশি হয়। স্বাস্থ্য খরচকে আমরা সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করি—মেডিকেল ব্যয়, নন-মেডিকেল ব্যয় ও পরোক্ষ ব্যয়। অসুস্থতাজনিত কারণে উপার্জন থেকে বিরত থাকা, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া- এগুলো পরোক্ষ ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। যেমন কেউ অসুস্থ হয়ে দুদিন অফিসে যেতে পারল না কিংবা অফিসে এলেও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। এখানেও কিন্তু এক ধরনের কর্মক্ষমতা নষ্ট (প্রডাক্টিভিটি লস) হচ্ছে। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাকে সাহায্যের জন্য কাউকে রাখতে হয়েছে, ওই সহযোগী ব্যক্তিকে তার কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকতে হলো, ফলে তার কর্মক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে- এ বিষয়গুলো হচ্ছে পরোক্ষ খরচ। যারা দরিদ্র জনগোষ্ঠী, দিন আনে দিন খায়, তাদের জন্য এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। মেডিকেল ব্যয়, নন-মেডিকেল ব্যয়, পরোক্ষ ব্যয় তিনটি মিলিয়ে আমরা এটিকে বলি সামগ্রিক স্বাস্থ্য খরচ। ভবিষ্যতে এই সামগ্রিক স্বাস্থ্য খরচ অনেক বেড়ে যাবে, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ খরচ মেটাতে গিয়ে অতিদরিদ্র হয়ে যাবে।

সেক্ষেত্রে ভবিষ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এখন থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

বিআইডিএসের জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় যাচ্ছে। অন্যদিকে শুধু ২০ শতাংশ মানুষ যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালে। আমাদের দেশের মানুষের যদি সরকারি হাসপাতালগুলোয় যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, সেক্ষেত্রে কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই খরচটা কমে আসবে। আমাদের সরকার সবসময় ইতিবাচক। ঢাকা মেডিকেল ২ হাজার ৬০০ রোগীর বরাদ্দ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার ভর্তীকৃত রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছে, যা ধারণক্ষমতার তিন গুণের কাছাকাছি। আমাদের দেশে যথাযথ সুপারিশ ব্যবস্থা (রেফারেল সিস্টেম) নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি ঢাকা মেডিকেলে রোগী আসছে চিকিসাসেবা নিতে। আমাদের যদি প্রাইমারি সেবা কেন্দ্র থেকে সেকেন্ডারি হাসপাতাল (যেমন সদর হাসপাতাল-জেনারেল হাসপাতাল), এরপরটারশিয়ারি হাসপাতাল (যেমন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতাল)—এধরনের শৃঙ্খলা চেইন থাকত, তাহলে চূড়ান্ত পর্যায়ে এত রোগীর ভিড় সামলাতে হতো না। সেক্ষেত্রে টারশিয়ারি হাসপাতালগুলায় সেবার মান আরো ভালো হতো। এ বিষয়গুলোয় নজর দিতে হবে। অনেক রোগী আছে, যাদের সেবা দিয়ে সুস্থ করার সক্ষমতা সেকেন্ডারি পর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে তাদের চিকিসা সেকেন্ডারি পর্যায়ে শেষ হয়ে যায়। ব্যবস্থাগত সমন্বয় না থাকার কারণে ঢাকায় অবস্থিত টারশিয়ারি ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোয় যদি রোগীর চাপ কমানো যায়, তাহলেও স্বাস্থ্য খরচ কমানো সম্ভব হতো। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি সাধন বর্তমানে খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

দেশের বাইরে গিয়ে চিকিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রবণতা বৃদ্ধির অন্য আর কী কী কারণ আছে বলে মনে করেন?

আমাদের দেশের চিকিসকদের ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে বিদেশের চিকিসকদের ব্যবস্থাপত্রের কিন্তু তেমন পার্থক্য নেই। একই সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোর রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে বিদেশের হাসপাতালগুলোর দৃশ্যমান কোনো পার্থক্য নেই। আমার নিজেরই এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখানের ব্যবস্থাপত্র আর দেশের বাইরের হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরোটাই একই রকম। কিন্তু আমরা তার পরও যাচ্ছি। কারণ দেশে চিকিসা ব্যবস্থার ওপর আমাদের অনেকেরই আস্থা নেই। আবার কোনো পরিবারে এমনও অভিজ্ঞতা রয়েছে যে একই ব্যক্তির একই টেস্টের রিপোর্ট দুই ধরনের এসেছে। পরবর্তী সময়ে অসুখ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। দেশে স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত এই যে আস্থাহীনতা, তার ফল বিদেশে চিকিসা গ্রহণ।

আমাদের দেশের চিকিসকদের মান নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। অনেক সময় আস্থাহীনতা তৈরি হয় ডায়াগনসিস বা রোগ নির্ণয় নিয়ে। হাসপাতালভেদে রিপোর্ট একেক রকম হয়। দেশের ডায়াগনসিস সেন্টারগুলো গুণগত মান ধারণ করে না- মানুষের মধ্যে এ ধরনের একটি বিষয় প্রচলিত। এসব কারণে মানুষ চিকিসা নিতে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আর্থিকভাবে সচ্ছল জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশ আছে, যারা প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে দেশের বাইরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আসে।

আমাদের চিকিসা ক্ষেত্রে আরো একটা সমস্যা রয়েছে। চিকিসকদের কাছে গেলে প্রথমেই বিভিন্ন ধরনের টেস্ট দিয়ে দেন, যার কতটা প্রয়োজন রয়েছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই মনে করে, এত বেশি টেস্ট না দিলেও তিনি পারতেন। আমাদের দেশের চিকিসক ও চিকিসা পদ্ধতি ঘিরে এ ধরনের একটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। অনেক সময় রোগীরা ভুল বুঝছে। কখনো কখনো কোনো চিকিসক হয়তো বেশি টেস্ট দিচ্ছেন, ফলে দেশের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বাড়ছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিদেশনির্ভরতার এটাও অন্যতম প্রধান কারণ। আমি মনে করি, এ বিষয়গুলোয় নজর দেয়া জরুরি।

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিদেশ নির্ভরতা কীভাবে কমানো যায়?

চিকিসা ব্যবস্থার পাশাপাশি আমাদের দেশে রোগ নির্ণয়ের খরচ অনেক বেশি। দ্বিতীয়ত, অনেকে মনে করে যে চিকিসা নেয়ার সময় হয়তোবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ দেয়া হয়। দেশের বাইরে চিকিসা নিলে কম চিকিসা ব্যয়ের পাশাপাশি কম ওষুধ দেয়া হয়—এ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিসা নিতে আগ্রহী হচ্ছে। আমি আবারো বলছি, আমাদের চিকিসকরা অনেক বেশি যোগ্য ও দক্ষতাসম্পন্ন। দেশে অনেক ভালো মানের হাসপাতাল আছে, ডায়াগনসিস সেন্টার আছে কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুণগত মান ধরে রাখা হয় না। আবার যথাযথ মনিটরিং করাও অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাছাড়া মানসম্পন্ন হাসপাতালগুলোয় চিকিসা খরচ এত বেশি যে সাধারণ নাগরিকরা তা মেটাতে পারে না। দেশের মধ্যেই যদি খরচ কমিয়ে উন্নত চিকিসার নিশ্চয়তা দেয়া যায়, তাহলে বিদেশনিভর্রতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এ ধরনের ‘আউটবাউন্ড মেডিকেল ট্যুরিজম’ যদি আমরা কমাতে পারি তাহলে বড় অংকের অর্থ দেশে থাকবে।

দেশে চিকিসা ব্যয় মেটাতে প্রতি বছর ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যাও বাড়ছে।

বিআইডিএসের গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, আয়ের হিসাবে সবচেয়ে নিচের দিকে থাকা জনসংখ্যার মোট আয়ের ৬৭ শতাংশই আউট অব পকেট অর্থা স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হচ্ছে। অথচ মোট জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এ খরচের পরিমাণ তাদের আয়ের মাত্র ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। কাজেই স্বাস্থ্য খরচ বাড়লে যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে, তাদের ব্যয় বেড়ে যায়। তাই আমাদের স্বাস্থ্য বীমার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। সরকার এ বিষয়ে চেষ্টা করছে। আমরা যদি সবার জন্য স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় মিলবে। কোরিয়ায় কিন্তু শতভাগ জনসংখ্যা স্বাস্থ্য বীমার আওতায় রয়েছে। আমরা বাইরের সফল এ দেশগুলোর পথ অনুসরণ করে এগোতে পারি। কোরিয়া প্রথমে সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্য বীমার আওতায় এনেছে, এরপর সাধারণ শিক্ষার্থী, বেসরকারি কর্মচারী- সবাইকে ক্রমান্বয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে। স্বাস্থ্য বীমার মাধ্যমে খরচটা ভাগ হয়ে যায়। যখন যার প্রয়োজন তখন সে এ থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারবে। যদিও সরকার চেষ্টা করছে, সর্বোপরি সবাইকে এ ব্যাপারে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

দেশের সব জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ‘সর্বজনীনস্বাস্থ্য সুরক্ষা’ কর্মসূচি চালু করা হলেও খুব একটা অগ্রগতির কথা শোনা যায় না।

দেশের সব জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১২ সালে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কৌশলপত্র (হেলথ কেয়ার ফিন্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি) প্রণয়ন করা হয়। এতে ২০১২ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে সব জনগোষ্ঠীকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরি করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি রোডম্যাপ হাতে নেয়া হয়। এর প্রথম ধাপ ছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এরই অংশ হিসেবে ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজের আওতায় টাঙ্গাইলের তিন উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২০১৬ সালে চালু করা হয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) নামে পাইলট প্রকল্প। এটি সফল হলে ধাপে ধাপে সারা দেশে এ প্রকল্প ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তারা কিন্তু কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য সচিব এটা নিয়ে আরো অনেক বেশি সচেতন। এর বাস্তবায়নে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এটা থেকে যদি জনগণ সুফল পায় তাহলে আরো উপজেলায় প্রকল্পটা চালু করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ভয়াবহতা উল্লেখ করে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছিলেন। কলকাতায় যেমন আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি কতটুকু?

ডেঙ্গুর ভয়াবহতার জন্য সিটি করপোরেশন কিন্তু এককভাবে দায়ী নয়, দায়ী আমরা সবাই। আমরা অভ্যাসগতভাবেই যেখানে সেখানে পানির বোতল, প্যাকেট, পলিথিন, ময়লা ইত্যাদি ফেলছি। সরকার আছে, সহযোগী সংস্থা রয়েছে, জনসাধারণ রয়েছে—সবাই মিলে সমন্বিত চেষ্টা করলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। আমরা যদি আমাদের বাড়ির পাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতাম তাহলে এডিস মশার বংশবিস্তার কমে যেত। তবে জনগণের সচেতনতার পাশাপাশি সিটি করপোরেশন যদি আরো একটু সচেতন হতো এবং নিয়ম মেনে মশা নিধনের ওষুধ ছিটাত তাহলে হয়তোবা পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করত না। ভবিষ্যতের জন্যও আমাদের আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। তাছাড়া এনসিডি (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ) বেড়েছে। বিষয়গুলো সামলাতে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ নিতে এবং সচেতন হতে হবে। যেমন রাস্তার পাশে শরবত বানাচ্ছে এবং মানুষ সেগুলো হরহামেশা খাচ্ছে। এভাবে অনেকেই টাইফয়েডসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাইরে বের হলেই প্রচুর ধুলাবালির মধ্যে পড়তে হচ্ছে, নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ধুলাটা আমাদের শরীরে গিয়ে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে বাইরে বের হওয়ার আগে মাস্ক পরা, রাস্তার পাশে থাকা খাবারগুলো না খাওয়া কিংবা বাসা থেকে ফুটানো পানি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে যদি খেয়াল রাখি তাহলে সমস্যাগুলো অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি রোগের ধরন বেড়েছে, চিকিসার ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু সে অনুযায়ী আমরা কতটা প্রস্তুত?

এক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সময় লাগে। যখন কোনো রোগের ধরনের পরিবর্তন হয় তখন বিষয়টি পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে সময়ের প্রয়োজন হয়। যেমন গত বছরের জুনে যখন ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে তখন আমাদের বুঝে উঠতেও কিন্তু সময় লেগেছে। পরবর্তী সময়ে সরকার ডায়াগনসিস টেস্টের ফি ঠিক করে দিয়েছে, বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের চিকিসা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বলব, বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ বাসিন্দা কিন্তু ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে এসে ভাসমান মানুষের কাতারে শামিল হচ্ছে। দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যারা অভিবাসী হয়ে আসছে, তাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা বেশি হচ্ছে। যার বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে যখন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এ দেশে আসা শুরু করে তখন সর্বপ্রথম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করে। পরে অন্যান্য দেশী ও বিদেশী সংস্থা সেখানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান শুরু করে। হঠা কোনো দুর্যোগের সম্মুখীন হলে বা কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তা মোকাবেলা করার জন্য সম্পদস্বল্পতার কারণে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। তবে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে যদি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব হতে পারে—এ বিষয়ে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আরো বেশি প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব বলে আমার মনে হয়। তাছাড়া ডাক্তার, নার্সসহ যারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের আরো নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার দিকটি খেয়াল রাখতে হবে।


এসডিজি অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির পকেট থেকে খরচ ৩০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। অথচ বাংলাদেশে এ খরচ অন্যদের তুলনায় বেশি। সেক্ষেত্রে আমরা এসডিজির অভীষ্ট পূরণ করতে সক্ষম হব কি?

সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে আমরা এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছি। এসডিজি অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যক্তির নিজ পকেট থেকে খরচ ৩০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে ২০১২ সালে যখন স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কৌশলপত্র তৈরি করে, তখন স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ব্যক্তি নিজে বহন করত। কৌশলপত্রে ব্যক্তির নিজের খরচের অংশ ধীরে ধীরে কমানোর পাশাপাশি সামাজিক স্বাস্থ্য বীমার কথা বলা হয়। গত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের পকেটের ব্যয় বাড়ছে। বর্তমানে চিকিসা ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৭ শতাংশ ব্যক্তির নিজের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। ব্যক্তির নিজ পকেট থেকে খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং মানুষের বেসরকারি হাসপাতালমুখী হওয়া। ব্যক্তির নিজ পকেট থেকে খরচ বাড়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে ওষুধ কেনায় ব্যয়। দেশের জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক উস (ইনফরমাল প্রভাইডার) থেকে চিকিসা নেয়। তাদের অধিকাংশ আবার ওষুধের দোকানের বিক্রেতার পরামর্শে ওষুধ সেবন করে। এমনকি বিনা প্রেসক্রিপশনে বিক্রেতার পরামর্শমতে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও গ্রহণ করে। এদিকে সেকেন্ডারি পর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় চিকিসকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। একই সঙ্গে সেখানে বিশেষায়িত চিকিসা নেই, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। এসব কারণে মানুষ ঢাকায় চলে আসে। ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ পড়ে।

এসডিজির লক্ষ্যমাত্রায় স্বাস্থ্যগত যে বিষয়গুলো পূরণের কথা বলা হয়েছে, এর মধ্যে কিছু বিষয়, যেমন পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার, টিকাদান কর্মসূচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে এবং সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি আমরা পৌঁছতে না-ও পারি, তাহলেও লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারব। আমাদের ইতিবাচকভাবে ভাবতে হবে। উন্নয়ন তত্ত্ব বলে, যদি আমরা সামনে এগোতে চাই, তাহলে যেখানে আছি, সেখান থেকে একটু একটু করে এগোতে হবে।

এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্জন করতে হলে স্বাস্থ্য বীমায় বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা যত দ্রুত এটি চালু করতে পারব, এসডিজি অর্জনের পথ তত সুগম হবে বলে আমি মনে করি। চিকিসা ব্যয়ের সামগ্রিক বোঝাটা কমে যাবে। যদিও সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজের পকেটের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল, প্রকৃতপক্ষে তা আগের চেয়ে বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমি আশা করছি, আমাদের সরকার চিকিসাসেবা গ্রহণের জন্য ব্যক্তির নিজ পকেটের খরচ কমাতে সামাজিক স্বাস্থ্য বীমা চালুসহ আরো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। (দৈনিক বণিক বার্তা থেকে সংগৃহীত)

Related posts