বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০ | ১ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

পেয়ারার এত গুণ!

এসবিনিউজ ডেস্ক: দেশি ফলের মধ্যে অতি উৎকৃষ্ট পেয়ারা। বর্তমানে সারা বছরজুড়েই মিলছে এর দেখা। তবে এটি বর্ষাকালের ফল। এ সময়ে দেশের আনাচে কানাচে দেশি পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় এর দামও অনেক কম থাকে। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিতে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও এ। একটি মাঝারি আকৃতির কমলা থেকে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে পেয়ারাতে। ১০ গুণ বেশি ভিটামিন এ রয়েছে লেবুর তুলনায়। এছাড়া ভিটামিন বি২, ই, কে, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ফসফরাস, পটাসিয়াম ও নিকোট্রিন অ্যাসিড রয়েছে। ফলে এই ফলটি আমাদের অনেক রোগ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। চলুন তাহলে জেনে নেই এই ফলের নানা উপকারিতা-

১. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়: পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি প্রদান করে।

২. ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস: পেয়ারাতে লাইকোপিন, ভিটামিন সি, কোয়ারসেটিন এর মত অনেকগুলো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা শরীরের ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করে। এটি প্রোসটেট ক্যানসার এবং স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

৩. হার্ট সুস্থ রাখে: নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্ত চাপ ও রক্তের লিপিড কমে। পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, ভিটামিন সি রয়েছে। পটাশিয়াম নিয়মিত হৃদস্পন্দনের এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ভাবে লাইকোপিন সমৃদ্ধ গোলাপি পেয়ারা খেলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কমায়।

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে: চাইনিজ চিকিৎসা শাস্ত্ররে অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পেয়ারা ব্যবহার হয়ে আসছে। ১৯৮৩ সালে American Journal of Chinese Medicine জানায়, পেয়ারার রসে থাকা উপাদান ডায়াবেটিস মেলাইটাসের চিকিৎসায় খুবই কার্যকর। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে পেয়ারা পাতাও বেশ কার্যকর। কচি পেয়ারা পাতা শুকিয়ে মিহি গুঁড়ো করে ১ কাপ গরম পানিতে ১ চা চামচ দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রেখে তারপর ছেঁকে নিয়ে পান করতে পারেন প্রতিদিন। এতে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৫. ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দূর করে: বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা যেমন ব্রংকাইটিস সারিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে পেয়ারা। উচ্চ পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন সি থাকায় এটি শ্লেষ্মা কমিয়ে দেয়। তবে পাঁকার চেয়ে কাঁচা পেয়ারা এসব সমস্যা দূর করতে বেশি কার্যকর।

৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: পেয়ারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

৭. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে: ভিটামিন এ চোখের জন্য উপকারি। পেয়ারায় থাকা ভিটামিন এ কর্নিয়াকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।

৮. পিরিয়ডের ব্যাথা হ্রাস: পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে অনেক নারী পেট ব্যাথায় ভোগেন।এ সময় অনেকেই ব্যাথার ঔষধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু পেয়ারার পাতা চিবিয়ে বা রস খেলে এজাতীয় ব্যাথায় দ্রুত উপসম পাওয়া যায়।

৯.ডায়রিয়া রোধ করে: পেয়ারার আছে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা। তাই এটি ডায়রিয়া দমনে সহায়তা করে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা অনেকখানি কমে যায়।

১০. ওজন কমায়: পেয়ারা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই ফলের রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয়সহ পেটের অসুখ সারাতে পারে।

তাই বর্ষায় করোনা সময়ে প্রচুর পেয়ারা খান এবং সুস্থ থাকেন।

Related posts