বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ১৯ মাঘ ১৪২৯

পাটখাতকে লাভজনক করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

এসবিনিউজ ডেস্ক: পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পাট ও পাটপণ্যের রফতানির জন্য উদ্দীপক সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট শিল্প টেকসই করতে এ খাত লাভজনক করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাট এমন একটি পণ্য যার কিছুই ফেলনা নয়, অতএব কেন এতে লোকসান হবে, আমি কোন লোকসানের কথা শুনতে চাই না বরং পাটশিল্প কিভাবে লাভজনক হতে সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, নতুন পণ্যের উদ্ভাবনার মাধ্যমে আমরা এই খাতকে লাভজনক করতে পারবো। যারা হতাশাপূর্ণ তাদের মধ্যে আমি নেই, আমি সর্বদা আশাবাদী।
বুধবার (৬ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পাট দিবস-২০১৯ এবং বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম। মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
মন্ত্রীবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর সচিবগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিদেশী কূটনীতিকবৃন্দ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আজ দেশ্যব্যাপী পাট দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের পাট দিবসের স্লোগান হচ্ছে ‘ সোনালী আঁশের সোনালী দেশ, জাতির পিতার বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় এই খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে আমরা চাই বেসরকারি খাত এই খাতের প্রতি আরও গুরুত্ব দিক। বেসরকারি খাত এই খাতে যত বেশি গুরুত্ব দেবে পাটশিল্প ততোই বিকশিত হবে। তিনি বলেন, তার সরকার দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে অন্যান্য খাতে উদ্দীপক সুবিধা দিচ্ছে। পাটখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এই সুবিধা দেয়া হবে, যাতে তারা আরো বেশি পাটপণ্য রফতানি করতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, অন্যান্য রফতানিমুখী পণ্য যে ইনসেনটিভ পাচ্ছে, পাটপণ্যের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ইনসেনটিভ দেয়া হবে। পাট পরিবেশবান্ধব, বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য আঁশ। শিল্প বিপ্লবের সময় থেকেই অন্যান্য কৃত্রিম আঁশের স্থান দখল করে পাটের যাত্রা শুরু। পাটের আঁশের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অন্য অনেক আঁশের সাথে মিশ্রণ করে একে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া এ আঁশ পচনশীল বিধায় পরিবেশের ক্ষতি করে না। তিনি বলেন, পাট এক সময় আমাদের অর্থনীতির বুনিয়াদ ছিল। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ছিল পাটের সম্পৃক্ততা। ছয়দফা আন্দোলনের ঘোষণায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে পাটের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহারেও পাট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৯০ ভাগ আসত পাট খাত থেকে। কিন্তু কিছুটা কৃত্রিম আঁশের আগ্রাসনের ফলে আবার কিছুটা ৭৫-পরবর্তী সরকারগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের দেশের পাট খাতে মন্দা নেমে এসেছিল।মাঝে কিছুটা সময় পাটের মন্দ সময় গেলেও এখন নতুন করে পাট শিল্পের সুদিন ফিরে আসছে। সারাবিশ্বের মানুষ ক্ষতির দিক বিবেচনায় নিয়ে কৃত্রিম আঁশের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আবার পাটের মত প্রাকৃতিক আঁশের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। এ সময়ে আমরা মাথাপিছু আয় ২,৭৫০ মার্কিন ডলার এবং রপ্তানি আয় ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে একদিকে প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ, অন্যদিকে আমাদের পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা বহুমুখীকরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাটজাত পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি। এজন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আমরা সফলকাম হতে পারব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে তোলা। আসুন, লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভূমিকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।
‘সোনালি আঁশ’-পাটের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করব- এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পাট দিবস-২০১৯ এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
পাটখাত বিকাশের লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তৃতীয়বারের মত জাতীয় পাট দিবস পালিত হচ্ছে। এ বিশেষ দিবসে পাট চাষ এবং পাট পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সকলকে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাট আমাদের সোনালি আঁশ। পাটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার জন্য ৬-ই মার্চকে জাতীয় পাট দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমি আশা করি এই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে পাটখাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলে একযোগে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী পাট খাতের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৪টি পুরষ্কার তুলে দেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বিআইসিসি চত্বরে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

Related posts