শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

নবান্ন জাগ্রত দ্বারে

এসবিনিউজ ডেস্ক: আজ পয়লা অগ্রহায়ণ। নবান্ন উৎসব। অগ্রহায়ণ এলে পাকা ধানের সঙ্গে আনন্দ উৎসবে জড়িয়ে যান গ্রামবাংলার কৃষক। এই চিত্র হাজারো বছরের। নতুন অন্নের উৎসব আমেজ এখন গ্রামবাংলা জুড়ে।

কৃষি প্রথা যখন চালু হয়েছিল, নবান্ন উৎসবও তখন থেকেই। উৎসবটি মূলত ধানকে কেন্দ্র করেই। ধান আমাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গ্রামে যাদের শিকড় কেবল তারাই নবান্ন উৎসবের মর্মার্থ অনুধাবনে সক্ষম। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দই আলাদা। এ সময় কৃষকদের চোখে ভাসে হাসির ঝিলিক।

নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। হেমন্ত এলে গোলা ভরা ধানে ঘর ভরে তোলার যে আনন্দে ভাসতে থাকে কৃষকের মন, তার অবসান হয় অগ্রহায়ণে। নতুন ধানের ম-ম গন্ধে ভরে ওঠে কৃষক বাড়ির আঙিনা । এ সময় নতুন ধানের চাল দিয়ে রান্না উপলক্ষে গ্রামবাংলার বাড়িতে বাড়িতে  উৎসবের আমেজ বহমান থাকে। থাকে পিঠে-পুলিরও আয়োজন। আপনজনদের আসা-যাওয়া বেড়ানোর এটাই যেন সঠিক মৌসুম।

কৃষকের মাঠে এখন সোনারঙা ধানের ছড়াছড়ি। সারা দেশেই আমন ধান কাটার উৎসব শুরু হয়ে গেছে। নতুন ধানের ভাত মুখে দেওয়ার আগে মিলাদ পড়ানো হয়। মসজিদে শিন্নি দেওয়ার রেওয়াজও আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কৃষকের ঘরে পূজার আয়োজনও চলে। এসব এখন যে একেবারেই হারিয়ে গেছে তা কিন্তু নয়।

বাংলাদেশ উৎসবের দেশ। বাংলাদেশে এখনো নতুন ধানের চাল দিয়ে রান্না উপলক্ষে নবান্ন উৎসব হয়। কোনো কোনো অঞ্চলে ফসল কাটার আগে বিজোড় সংখ্যক ধানের ছড়া কেটে নিয়ে ঘরের চালে বেঁধে রাখে এবং বাকি অংশ চাল করে নতুন চালের পায়েস করে নবান্ন করে থাকে।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলা দিনপঞ্জি বদলে গেছে। চলতি ১৪২৬ বঙ্গাব্দে প্রথমবারের মতো আশ্বিন মাসের গণনা শুরু হয় ৩১ দিন হিসাবে। বাংলা একাডেমি দীর্ঘদিনের চেষ্টায় বাংলা বর্ষপঞ্জির এই সংস্কার করেছে। জাতির ইতিহাসের গৌরবময় দিনগুলো বাংলা ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিতে অভিন্ন তারিখে সমন্বয় করতেই বাংলা বর্ষপঞ্জিতে এই সংস্কার আনা হয়েছে। সে হিসেবেই আজ শনিবার পয়লা অগ্রহায়ণ।

Related posts