বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২৪ মাঘ ১৪২৯

নগর পরিবহন: ভোগান্তির শেষ নেই!

প্রবীর বিশ্বাস: এমনিতেই সংকট, তার উপর যে কয়টা সড়কে চলাচল করছে তার অধিকাংশের অবস্থা খুবই নাজুক। ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব নগর পরিবহনে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়লেও চলাচল যেন সয়ে গেছে তাদের। খুলনা মহানগরীতে চলাচল করা নগর পরিবহন যারা দেখভাল করেন তারা এসব সমস্যা আর সংকটের কথা জানলেও তা থেকে উত্তরণ পথ বের না করায় সাধারণ মানুষের নগর পরিবহনের ওপর আস্থা যেন ক্রমশই কমছে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেই যাতায়াত করছে নগরবাসী। এ বিষয়ে নানা সময়ে দাবি তোলা হলেও তা রয়ে গেছে তিমিরেই।
ঘর ঘর ভর ভর শব্দ। মেঘের মতো কালো ধোঁয়া নির্গমন। ঝনঝন করে ছুটে চলা মুড়ির টিন মার্কা পরিবহন। দূর থেকে দেখলে যে কেউ মনে করতেই পারেন, এটি ব্যবহারের অযোগ্য। কোনোটির রং চটা, কোনোটির ছাল ওঠা। কোনো কোনো বাসের সামনের গ্লাস ভাঙ্গা আর কোনোটি গ্লাসই নেই, কোনোটির আবার দরজা নেই। এতো গেলে বাইরের অবস্থা, সিট ভাঙ্গাচোরা, কোন সিটে আবার ফোম উঠে গেছে অনেক আগে। জানালা আর ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। আপাদমস্তক ত্রুটিযুক্ত এসব নগর পরিবহন যাতায়াত করছে নগরীর রূপসা ঘাট থেকে ফুলতলা পর্যন্ত।
সূত্রমতে, মহানগরীতে কেসিসি’র এক হাজার ২১৫টি সড়ক রয়েছে। যার মোট দৈর্ঘ্য ৬৪০ কিলোমিটার। এক সময় মহানগরীতে লক্কড়-ঝক্কড় অবস্থার ৪০টি বাস চলাচল করতো। তবে বর্তমানে এ সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। ক্রমশই সেবার মান নিম্নমুখি হওয়া, দীর্ঘ দিন পরিবহগুলো মেরামত না করা, রাস্তায় চলাচলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকায় এমন পরিস্থিতি। গণপরিবহন সংকট নিরসনে ২০১৬ সালের ১১ জুন পাঁচটি দোতলা বাস (ডাবল ডেকার) চালু করলেও অল্পদিনে বন্ধ হয়ে যায় রাষ্ট্রীয় পরিবহন ‘বিআরটিসি’র এ সার্ভিসটি। বিআরটিসি’র দায়িত্বশীল সূত্র জানান, নগর পরিবহন মালিকদের বিরোধীতার কারণে টিকে থাকতে পারেনি রাষ্ট্রায়ত্ত এ পরিবহন। এরপর আর নগর পরিবহন নিয়মিত চলাচল না করায় বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীরা। অথচ বিভাগীয় শহর খুলনার কয়েকটি পয়েন্টে নির্দিষ্ট সময়ে যানজট নিত্যদিনের দুর্ভোগ। অগণিত ইজিবাইক, অতুল-মাহেন্দ্রা ও অটোরিকশার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে পায়ে চালিত রিকশাও।
ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ নগর পরিবহনে চলাচল যেমন বিপদজ্জনক তেমনি এসব পরিবহন নগরীর সৌন্দর্য বিনষ্ট করছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা, নারী আসনে অনায়সে বসে পড়েন পুরুষেরা, পুরনো ইঞ্জিনের কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ এসব পরিবহন থেকে নূন্যতম নাগরিক সেবাটুকু পাওয়া যায় না। অথচ নগর পরিবহনের বেশিরভাগ যাত্রী স্বল্প আয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী; এসব কথা জানালেন নগর পরিবহনে চড়া যাত্রীরা।
ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত নগর পরিবহনের দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে খুলনা মোটর বাস মালিক সমিতি। তবে তারা কোনো ধরণের দায় নিতে নারাজ। এ নিয়ে সমিতিরূ সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুজিবর রহমান বলেন, নগর পরিবহনগুলোতে দিন দিন যাত্রী কমতে থাকার কারণে অনেকে মালিকই তাদের গাড়ী উঠিয়ে নিয়েছে। এছাড়া জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অনুসঙ্গীক খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন গুটিয়ে নিতে এক ধরনের বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। তবে আগামীতে খুলনা শহরে নতুন ভাবে গণপরিবহন চালানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিআরটিএ খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক জিয়াউর রহমান জানান, নগরীতে যে সকল পরিবহণ আগে চলাচল করতো সেগুলো বেশ পুরানো। যার ফিটনেস অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই ফেটনেসবিহীন গাড়ি সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিরাপদ নেই বলে সেগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আর যেগুলো অপেক্ষাকৃত একটু ভালো সেগুলোর মেয়াদ বেধে দেওয়া হয়েছে গাড়ী ও চালকের কাগজপত্র আপডেট করার জন্য। নগরবাসীর সুবিধার্থে গণপরিবহন নিয়ে উদ্যোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা মালিক সমিতি, কেএমপির কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সভা করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে নগরীতে কয়েকটি রুটে ৩০ সিটের মিনিবাস চালু করা হবে।

Related posts