রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২২ মাঘ ১৪২৯

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে ভয়াবহ মন্দায় বৈশ্বিক অর্থনীতি

এসবিনিউজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে ভয়াবহ মন্দায় পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে, মহামারীর কারণে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৫ দশমিক ২ হারে সঙ্কুচিত হবে। বিশ্বের বড় অংশের অর্থনীতিতে মাথা পিছু আয়ে যে হ্রাস দেখা দেবে তা ১৮৭০ সালের পর সর্বোচ্চ হবে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম মহামন্দা দেখা দেবে। এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের প্রাক্কলনের চেয়ে অনেক কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকের’ জুন সংখ্যায় এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়। পরে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে। সব অঞ্চলে মাথাপিছু আয় কমার পাশাপাশি বাড়ছে বেকারত্বের হাহাকার। চলতি ২০২০ সালে বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ শতাংশ সংকুচিত হবে। তবে পরের বছরেই অর্থাৎ ২০২১ সালেই বৈশ্বিক জিডিপি ঘুরে দাঁড়াবে। তখন জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুসারে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এই বছর ৫ দশমিক ২ শতাংশ কম হবে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ভয়াবহ মন্দা। ১৮৪০ সাল থেকে মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে সব সময় ইতিবাচক ছিল, তবে এবার নেতিবাচক অবস্থায়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহ, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির সব খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ২০২০ সালে অর্থনৈতিক কাজ ৭ শতাংশ কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতি (ইএমডিই) এবছর ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমবে। যা গত ৬০ বছরে হয়নি। মাথাপিছু আয় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই বছর লাখ লাখ লোককে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য, পর্যটন, পণ্য রফতানি এবং যেখানে বৈদেশিক অর্থায়নের নির্ভরতা রয়েছে সেখানে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে। বিদ্যালয়ের পড়াশোনায় বাধা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের টাকা খরচে স্থায়ী প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, কোভিড-১৯ এর কারণে শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, রফতানি আয় ও প্রবাসী আয় ব্যাপক হ্রাস পাওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশে নামতে পারে। যা আগে পূর্বাভাসে বলেছিল ২-৩ শতাংশে নেমে আসার কথা। গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এই অর্থবছরে তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ২৬ মার্চ থেকে দুই মাসের বেশি সময় চলা লকডাউনে অর্থনৈতিক কর্মকা- স্থবির হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাংক বলছে, মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের বিস্তার মোকাবেলায় দীর্ঘ লকডাউনের কারণে ভারত ও নেপালের মতো বাংলাদেশেও মানুষের ব্যক্তিগত ভোগ মারাত্মকভাবে কমেছে।

Related posts