বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

দাবি মানার পরেও বুয়েটে আন্দোলন কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

এসবিনিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার জেরে এখনো কেন আন্দোলন চলছে, এ প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দাবি মানার পরেও আন্দোলন করার যৌক্তিকতা কী?

শনিবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে মহিলা শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ছাত্রদের যে ১০ দফা দাবি, সবগুলো মেনে নিয়েছেন ভিসি। তারপরেও তারা নাকি আন্দোলন করবে। কেন করবে জানি না, এরপরও আন্দোলন করার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে?

তিনি বলেন, কোনো অন্যায়-অবিচার আমরা সহ্য করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। যারাই করবে, যার বিরুদ্ধে করবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ধরে রাখতে হবে।

বুয়েটের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকদিন আগে বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে… কোন দল করে সেটা নয়, আমরা খুনিকে খুনি হিসেবে দেখি। অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী, অত্যাচারীকে অত্যাচারী হিসেবেই দেখি।

তিনি বলেন, খবরটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি কারও আন্দোলনের অপেক্ষা করিনি, কারও বলার অপেক্ষা করিনি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি যে, এদের আটক ও ভিডিও ফুটেজ থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হোক।

সিসিটিভির ফুটেজ আনতে গেলে তার একটি কপি দিয়ে আসার দাবিতে পুলিশ সদস্যদের বুয়েট ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আবারও প্রশ্ন তোলেন, (পুলিশ) এই ভিডিও ফুটেজ যখন সংগ্রহ করছিল, তখন তারা (আন্দোলনকারী) বাধা দিয়েছিল। কেন বাধা দিয়েছিল জানি না।

তিনি বলেন, আসামিদের চলে যাওয়ার একটা সুযোগই বোধ হয় করে দেওয়া নাকি এটার জবাব- ওই আন্দোলন যারা করেছিল, তারা বলতে পারবে। আমি বলতে পারবো না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে পুলিশের আইজিপি ছুটে আসলো। বললো, তারা (আন্দোলনকারী) বাধা দিচ্ছে। আমি বললাম, তারা কী চায়? বললো, তারা কপি চায়। আমি বললাম, কপি দিয়ে দাও। তাড়াতাড়ি ফুটেজটা নাও। ফুটেজটা নিলেই তো আমরা তাড়াতাড়ি আসামি চিহ্নিত করতে পারবো। দেখতে পারবো, কে গেছে না গেছে। তাদের ধরতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন-চার ঘণ্টা সময় যদি নষ্ট না করতো, তাহলে আরও আগেই (দোষীদের) ধরতে পারতো। অনেকে পালাতো পারতো না। সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়তে পারতো। এখানে সন্দিহান হওয়ার কিছু ছিল না। এখন বিষয়টি কী, না যারা জড়িত তারা করেছে, আমি জানি না। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু করে এরশাদ, খালেদা জিয়া- সব আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রদের এক হাতে অস্ত্র, আরেক হাতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

অন্য সরকারের আমলে কয়টা খুনের বিচার হয়েছে সে প্রশ্নও করেন প্রধানমন্ত্রী।

অতীতে বিভিন্ন খুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন মানবাধিকারবোধ, ন্যায়-নীতিবোধ কোথায় ছিল? 

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি আমলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে বুয়েটছাত্রী সনি নিহত হয়েছিল। তখন কে প্রতিবাদ করেছে? তখন তো বুয়েটের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে নামতে দেখিনি। প্রতিবাদ করতে দেখিনি তাদের।

তিনি বলেন, হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে কথা বলার অধিকার আছে সবার। বলতে পারে, অন্তত এই সুযোগটা আছে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূঁইয়া প্রমুখ।

 

 

Related posts