বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ১৭ মাঘ ১৪২৯

ঝড়ে পশুর নদীতে ড্রেজার ডুবি

স্টাফ রিপোর্টার: কাল বৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে একটি ড্রেজার ডুবে গেছে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পশুর নদীর বিদ্যারবাহন খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বাদল আনলোডিং নামক দেশীয় এ ড্রেজারটি প্রচন্ড ঝড়ে কাত হয়ে গেলে ভেতরে পানি ঢুকে ডুবে যায়। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ড্রেজার মালিক মো: মাসুম। ড্রেজার ডুবিতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছেন মালিক মাসুম। এদিকে ডুবে যাওয়া ড্রেজারটি উদ্ধারে এখনও পর্যন্ত কোন ধরণের তৎপরতা শুরু করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি মেম্বর বিশ্বজিৎ রায়। ড্রেজারটি পশুর নদীর কূলের দিকে ডুবায় মুল চ্যানেল দিয়ে নৌ চলাচল ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার দুরুল হুদা।
এদিকে দুইদিন ধরে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে মোংলাসহ আশপাশ উপকূলীয় এলাকায় কাচা ঘর-বাড়ী এবং গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশী-বিদেশী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা বর্ষণ শুরু কারণে খুলনার বিভিন্নস্থানে ঝড়ের সাথে বজ্রপাত ও শিলা বৃষ্টি হয়। ভোর থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও ৯টার দিকে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে। শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। ফাল্গুণের বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য আর্শিবাদ হলেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হওয়ায় আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সারাদিন টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও গাছপালার। খুলনায় বৃষ্টিতে রাস্তা ডুবে যায়। মহানগরীর অধিকাংশ রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গেছে। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলও ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নগরীর ব্যস্ততম রয়্যালের মোড়, শামসুর রহমান রোড, পিটিআই মোড়, স্যার ইকবাল রোড, শান্তিধামের মোড়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ পঙ্কজ কান্তি মজুমদার জানান, হালকা শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের উপকার হবে। আমের মুকুলের সামান্য ক্ষতি হলে হতে পারে।
খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া কার্যালয়ের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৫৬ কিলোমিটার।

Related posts