বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০ | ১ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

চীনের ‘উইঘুর’ মুসলিমদের ধর্মীয় নেতা ও ইমামরা চরম নিপীড়নের শিকার

এসবিনিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসলিম ‘উইঘুর’ সম্প্রদায়ের ইমামরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ভয়েস অফ আমেরিকার বরাত দিয়ে এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, উইঘুরের ধর্মীয় নেতারা এবং ইমামরা দিনে দিনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন।

গত সপ্তাহে নরওয়ে ভিত্তিক অ্যাডভোকেসি এবং সহায়তা সংস্থা উইঘুর হেল্প ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানিয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে উইঘুর সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ৫১৮ জন মুসলিম এবং তাদের ইমামকে আটকে রেখেছে। সেই সঙ্গে বেইজিংয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও নিয়োগপ্রাপ্ত বেশ কিছু ইমামকে দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন ইমাম প্রাণ হারিয়েছে।

তাদের মধ্যে একজন ইমাম আব্দুল করিম, যাকে ২০১৭ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে বলে জানিয়েছে তার মেয়ে হাজেনিম আবদুল করিম। হাজেনিমের অভিযোগ, তার বাবাকে কেন এতো লম্বা সময় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তারা জানতে পারেনি।

চীন সরকারের নিয়োগ প্রাপ্ত ৬১ বছর বয়সী ইমাম আব্দুল করিম দক্ষিণ জিনজিয়াংয়ের কাশগার শহরের ইয়েঙ্গিসার এলাকার একটি মসজিদে নামাজ পড়াতে গিয়ে আটক হন। চীন কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, আব্দুল করিম উইঘুরদের মধ্যে চরমপন্থি মতাদর্শ ছড়িয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার পরিবার।

বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, চীনা কর্মকর্তারা উইঘুর এবং তাদের ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অকারণে ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগ ব্যবহার করে নিপীড়ন চালিয়েছে।

উইঘুর হেল্পের প্রতিষ্ঠাতা আবদুওলি আইয়ুপ জানান, ইমামরা বিপুল সংখ্যক উইঘুরকে নেতৃত্ব দিতো, সংগঠিত করতো এবং মসজিদই ছিল উইঘুর ভাষা ব্যবহার করার মতো একটি নিরাপদ স্থান।

তিনি বলেন, জিনজিয়াংয়ের শান্তি ফেরাতে ৬০০ থেকে ৫০০ আরএমবি পর্যন্ত বেতন দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হত। কিন্তু দেশটির কমনিস্টরা উইঘুর জাতির সংস্কৃতি ও পরিচয়কে ভেঙ্গে দিতে তাদের আটকে রাখার পথ বেঁচে নিয়েছে।

চীন সরকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে উইঘুর মুসলিমদের ডেকে এনছিলো এবং তারপর তাদের বন্দি করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারেরা।

এমন একজন ইমামের ভাই আবদুল্লাহ ভয়েস অফ আমেরিকার কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চীনে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার পর তাকে তাকে তুরপানের একটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর পর তার আর কোন খবর পাওয়া যায়নি।

Related posts