বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ১৯ মাঘ ১৪২৯

চালের মুল্য বৃদ্ধির পেছনে ৫ কারণ

স্টাফ রিপোর্টার: সংসদ নির্বাচন পরবর্তী চালের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে ৫ কারণ চি‎িহ্নত করে খুলনা বিভাগের দশ জেলা প্রশাসক খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমঞ্চলের হাট বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। অটো রাইস মিল গুলোতে ধানের অবৈধ মজুদ নেই। এ অঞ্চলের ২ হাজার ৪শ’ রাইস মিলের মালিকদের সাথে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকরা দফায় দফায় বৈঠক করেছে।
হঠাৎ দাম বাড়ার কারণগুলো হচ্ছে-জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কিছুদিন শ্রমিক সংকট, পরিবহন বন্ধ থাকা, মিল থেকে যথা সময় চাল সরবারহ না করা, শীতে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়া ও আমন সংগ্রহ মূল্য কেজি প্রতি ৩৬ টাকা নির্ধারন করায় চালের মূল্য বেড়ে যায়।
খাদ্য মন্ত্রানালয়ের উপ-সচিব মোঃ কায়সার আহম্মদ ১৩ জানুয়ারি মোটা, মাঝারি ও চিকন চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে এক চিঠি পাঠিয়েছেন। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, মাগুরা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও নড়াইল জেলা প্রশাসক মূল্য বাড়ার পেছনে পাঁচ কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, জাতীয় সংসদ নিবাচনের সময় কিছুদিন শ্রমিক সংকট, পরিবহন বন্ধ থাকা ও মিল থেকে যথা সময় চাল সরবারহ হয়নি। এ কারণে চালের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, আপাতত চালের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিক সংকট, শীতে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং জাতীয় সংসদ নিবাচনের সময় কিছুদিন পরিবহন বন্ধ থাকায় হঠাৎ করে চালের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন জানান, চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মিল মালিকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কুষ্টিয়ায় ধানের অবৈধ্য মজুদ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকার তুলনায় কুষ্টিয়ায় চালের মূল্য কম রয়েছে। মূল্য বৃদ্ধির পেছনে একই কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা জানান, চালের মুল্য বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। সরকারি আমন সংগ্রহ মূল্য কেজি প্রতি ৩৬ টাকা নির্ধারন করায়, চালের মূল্য বেড়ে যায়। জেলার কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। কোন অযুহাতে মূল্য না বাড়ানোর জন্য মিল মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, উদ্বেগের কোন কারণ নেই দাম দু’ এক টাকা বেড়েছে। বাজার জেলা বাজার কর্মকর্তা স্থানীয় বাজার গুলো মনিটরিং করছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আতাউল গনি জানান, নির্বাচনের সময় তিন-চার দিন পরিবহণ বন্ধ ছিল। তার জন্য চালের দাম সামান্য বেড়েছিল। তাও অন্যান্য অঞ্চলের মত ততটা বৃদ্ধি পায়নি। মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। রাইস কল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সাথে মিটিং করা হয়েছে। মনিটরিং সেল কমিটি এক সপ্তাহের মধ্যে মূল্য স্বাভাবিক করা কথা বলেছে। এর চার-পাঁচ দিন হয়ে গেছে। বর্তমানে চালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, আমাদের এখানে চালের দাম বাড়েনি বরং আমরা আশা করছি দাম আরো কমে যাবে। আর দাম বৃদ্ধির ঘটনা আমাদের এখানে প্রযোজ্য হয়নি। আমাদের আইন শৃঙ্খলা কমিটিসহ ব্যবসায়ীদের সাথে দাম আরো কমাতে আলোচনা করেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস জানান, এখানে বিভিন্ন মিটিং করা হয়েছে। বর্তমানে চালের মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আওয়াল জানান, চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চালের দাম বৃদ্ধির কারণ জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছি।
মাগুরা জেলা প্রশাসক মোঃ আলী আকবর জানান, চালের মূল্য স্বাভাবিক আছে। মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট মনিটরিং চলছে। এছাড়া এডিএম এর নেতৃত্বে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এখানে কোন প্রকার অবৈধ্য মজুদ নেই।
নিউমার্কেট কাচা বাজার ও বৈকালী কাচা বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী জানান, নির্বাচনের পর পর পরিবহন বন্ধ থাকায় চালের মূল্য বেড়ে যায়। পরবর্তীতে সরকারি আমন ধান ক্রয় মূল্য ৩৬ টাকা নিধারন করায় এবং উত্তর অঞ্চলের অটো রাইস মিল মালিকরা এ অঞ্চল থেকে আমন ধান কিনে নিয়ে গেছে।
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক ইকরামুল কবীর জানান, চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে ভোমরা ও বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বেসরকারি পর্যায় ৩৬ হাজার ১৫ মে:ট চাল আমদানি হয়। গত ৩ মাসে সরকারি পর্যায় কোন চাল আমদানি হচ্ছে না। খুলনা বিভাগের ২ হাজার ৪৮১ টা রাইস মিলকে মূল্য স্থিতিশীল রাখয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Related posts