শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব, খুলনায় দু’জনের মৃত্যুসহ ৪৭ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

স্টাফ রিপোর্টার: প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনা জেলায় ৪৭ সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে ও ভেঙ্গে গেছে। মৎস্য ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঘর এবং গাছচাপা পড়ে নারীসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জোয়ার্দার বলেন, খুলনা জেলায় ৪৭ সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৯ হাজার ৪৫৫টি এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৩৭ হাজার ৮২০টি ঘরবাড়ী। খুলনার ৯টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের ২লাখ ৯৭ হাজার ৫শ’ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে এ পর্যন্ত নগদ ৮লাখ টাকা এবং ১ দশমিক ৬০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে  বহু গাছপালা উপড়ে ও ভেঙ্গে গেছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল খুলনা উপক’লের ২ লক্ষাধিক মানুষকে। প্রস্তুত ছিল ৫টি নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রস্তুত ছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। খুলনা জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে প্রমিলা মন্ডল (৫২) সাইক্লোন শেল্টার থেকে দক্ষিণ দাকোপ গ্রামের নিজ বাড়িতে প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে আসেন। তিনি ঘরে ঢুকার পর শিরিষ ও নারকেল গাছ ঘরের ওপর ভেঙ্গে পড়লে তিনি ঘর চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি দক্ষিণ দাকোপ গ্রামের সুভাষ মন্ডলের স্ত্রী। এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামে গাছ চাপা পড়ে আলমগীর (৩৫) নামে অপর এক যুবক নিহত হন। তিনি সেনহাটি গ্রামের শফিউদ্দীন মিস্ত্রির ছেলে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে অতিবর্ষণে জেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। ঝড়ে আমন ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের পোল ভেঙ্গে, ট্রান্সমিটার পড়ে এবং তার ছিড়ে পড়ায় শনিবার রাত থেকে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

খুলনা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সুন্দরবন উপক’লে প্রথম আঘাত হানে। রাত তিনটার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও খুলনার কয়রা অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা, মোংলা, বাগেরহাট ও পিরোজপুরের দিকে ধাবিত হয়। ভোর ৫টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি ৬০ কিলোমিটার বেগে খুলনা, মোংলা, বাগেরহাট ও পিরোজপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। তবে নদীতে জোয়ার না থাকায় আইলার মত জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা ঘটেনি।এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে শনিবার বিকেলে ভারতীয় অংশের সুন্দরবনের সাগরদ্বীপে আঘাত হানে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপক’লীয় জেলাগুলোতে গত শুক্রবার বেলা ১২টার পর থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। শনিবার বিকেলের পর থেকেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সুন্দরবনের দুবলার চরে আঘাত হানার পর থেকেই দমকা হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

Related posts