শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার: নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরিবহন শ্রমিকরা এ ধর্মঘট শুরু করে। এতে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় জামিনযোগ্যসহ সড়ক আইনের কয়েকটি ধারায় সংশোধন চান চালকরা। তাদের দাবি, আইন সংশোধনের পরই এ আইন কার্যকর করা হোক। এটা না করা পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে।

তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন দফতরে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আইনটি সংশোধন ছাড়াই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে খুলনায় সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর শ্রমিক ফেডারেশন বর্ধিত সভা ডেকেছে।

এদিকে হঠাৎ করে খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর কুষ্টিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোনাডাঙ্গা আন্ত: জেলা বাস টার্মিনালে লাগেজ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মো. আলিম হোসেন। কিন্তু বাস টার্মিনালে এসে জানতে পারেন বাস চলাচল বন্ধ। কিন্তু তাকে সোমবার সেখানে পৌছানোর কথা। চাকরি করেন পুলিশ বাহিনীতে। কি করবেন এমন ভাবনায় চিন্তিত ছিলেন তিনি। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ টার্মিনালে এসে শুনি বাস চলাচল বন্ধ।’

বাস টার্মিনালে অপেক্ষারত আহসান রানা বলেন, ‘তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার জন্য এসেছিলেন। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন বাস মালিকদের অধিকাংশ গাড়ির ফিটনেস সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক নেই। সেগুলো সড়কে নামালে প্রশাসন মামলা দিচ্ছে। জরিমানা করছে, তাই তারা বাস সড়কে নামাতে চান না। শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে ধর্মঘট করছে। তিনি বলেন শ্রমিকরাও ফিটনেস ও কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকায় বাস চালাতে রাজি হচ্ছে না।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, নতুন পরিবহন আইনে কোনো কারনে দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে নতুন আইনে চালকদের মৃত্যুদ- এবং আহত হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। আমাদের এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই এবং বাস চালিয়ে আমরা জেলখানায় যেতে চাই না। বাংলাদেশে এমন কোনো চালক নেই যে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে পারবে।

খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, শ্রমিকরা ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দ-ের ভয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা এসব করছে। এদিকে গতকাল সোমবার ভোরে ঈগল পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনের বাস নগরীর রয়্যাল কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে সকাল ৯টার পর থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে সড়কে নতুন আইন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আন্দোলন ও ধর্মঘট ডেকে চাপের মধ্যে ফেলে স্থানীয়ভাবে কোনো সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করতে দেয়া হবে না। সরকারের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ধর্মঘটের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হলে সে অনুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related posts