রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ২ মাঘ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পিসি রায়ের নামে করার দাবি’

স্টাফ রিপোর্টার: আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা খুলনা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের নামটি জগৎবিখ্যাত এই বিজ্ঞানীর নামে নামকরণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খুলনা কালেকটরেট চত্ত্বরে খুলনা জেলার মণিষীদের ভাষ্কর্য স্থাপনের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, খুলনায় জন্মগ্রহণকারী এই মানুষটি এই অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার, সমবায় আন্দোলন, শিল্প বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। অধুনাবিলুপ্ত খুলনা টেক্টটাইল মিলটি তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। এর প্রকৃত নাম ছিল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কটন মিল। মহান এই কর্মবীর মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের লক্ষ্যে আমরা তাঁর নামে কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের নামকরণ করতে পারি। বক্তারা খুলনায় তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির অর্থাভাবে সৃষ্ট অচলাবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৫৯তম জন্মদিবস উপলক্ষে সোমবার (৩ আগস্ট) খুলনা বিএমএ মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস ও গুণীজন স্মৃতি পরিষদ যৌথভাবে এই সভা আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএমএ খুলনা শাখার সভাপতি ডা: শেখ বাহারুল আলম।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা সিটি ল কলেজের অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল, সাংস্কৃতিক কর্মী হুমায়ুন কবির ববি, খুলনা নাগরিক সমাজের আহবায়ক অ্যডভোকেট আ ফ ম মহসীন, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি শ্যামল সিংহ রায়,ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য দেলোয়ার হোসেন দিলু, এপিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভবতোষ কুমার ঘোষ, আগুয়ান -৭১ এর আবিদ শান্ত, এ্যাড: মো: আব্দুল লতিফ, নারী নেত্রী শামীমা সুলতানা শীলু, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মফিদুল ইসলাম, বাসদের জনার্দন দত্ত নান্টু, নাগরিক নেতা শাহিন জামাল পণ, মিজানুর রহিম স্মৃতি পরিষদের সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, সিটি গার্লস কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহ মো: জিয়াউর রহমান স্বাধীন, নিরাপদ সড়ক চাই এর আহবায়ক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, রূপসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানস রায়, এপিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রদীপ দাস, বিষ্ণুপদ দেবনাথ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সনজিত কুমার মন্ডল, এপিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপুল কুমার দাস, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক মোস্তফা জামাল পপলু, কালের কন্ঠের কৌশিক দে, যমুনা টেলিভিশনের প্রবীর বিশ্বাস, ইয়াসিন আরাফাত রুমি প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালস-এর জেনারের ম্যানেজার হেনা ভৌমিক। সঞ্চালনা করেন গুণীজন স্মৃতি পরিষদের সমন্বয়কারি ও একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন।
বক্তারা বলেন, পশ্চাদপদ শিক্ষা ও অর্থনীতির দেশে জন্মগ্রহণকারী এই কৃতি মানুষটি মৌলিক জ্ঞানশাস্ত্রে যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি শিক্ষকতা, সমাজসেবা, সমবায় আন্দোলন, উদ্যোক্তা হিসেবে ও ভূমিকা রেখেছেন। ওষুধ শিল্প স্থাপনে তাঁর কৃতিত্ব অতুলনীয়। বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস তাঁর অনন্য সৃষ্টি। একেবারে সাধারণ জীবনাপনকারী এই মানুষটি সারাজীবন সমাজের হিতার্থে কাজ করেছেন। নিজে যা আয় করেছেন তার চেয়েও বেশী দান করেছেন। মানবপ্রেমী এই মানুষটির শেষ জীবন কেটেছে কলকাতার বিজ্ঞান কলেজের একটি ছোট্ট কক্ষে। মারা গিয়েছেন ছাত্রের কোলে মাথা রেখে। সভার শুরুতে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

Related posts