রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১১ মাঘ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

খুলনায় মেয়ে ও বাবা হত্যাকান্ডে ৫জনের ফাঁসি

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষনের পর তাকে ও তারা বাবা ইলিয়াছ চৌধুরীকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ৫আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকরের আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন তৃতীয় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মহিদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা  করেন।

রায়ের আদেশে পারভীন সুলতানা হত্যা মামলায়  প্রত্যেক আসামীকে ১লাখ টাকা এবং ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা মামলায় ১০হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকা-ের পর লাশ গুম করার অপরাধে প্রত্যেক আসামীকে আরও ৭বছর কারাদ- দেয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি ফরিদ আহমেদ। 

তিনি জানান, ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামিরা হলো, খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগাহ রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০), তার ভাই মো. শরিফুল ইসলাম (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৫) ও মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)। এদের মধ্যে হত্যাকান্ডের পর থেকেই আসামি শরিফুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। রায় ঘোষণাকালে শরীফুল বাদে অন্য চার আসামী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল।

আইনজীবী ফরিদ জানান,  হত্যাকান্ডের মামলায় ২২জন ও গণধর্ষনের মামলায় ২৮জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ধারায় লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের বর্ণনাা রয়েছে।

মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৫জনের মধ্যে ৪জন গ্রেফতার হয়। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় পিটিলের স্ত্রী আসমা খাতুন, নোয়াব আলি গাজী ও আসলাম মিস্ত্রি নামের একজন সন্দেহভাজনকে। তাদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠে আসে লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনা। লিটন ও সাঈদ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে বলে, ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন অফিসে আসা-যাওয়ার পথে আসামিরা কু-প্রস্তাবসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি করতো। এর প্রতিবাদ করায় ঘটনার দিন রাতে দেয়াল টপকে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ৫ আসামি। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীনের বাবাকে শ্বাসরোধে করে হত্যা করা হয়। পাশের রুমে থাকা পারভীনকে ৫জন মিলে গণধর্ষণের পর হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকির মধ্যে বাবা ও মেয়ের মরদেহ ফেলে দেয়। পরে ঘরে লুটতরাজ চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

আইনজীবী ফরিদ আহমদ মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে উত্ত্যক্ত করতো এলাকার কয়েকজন বখাটে সন্ত্রাসী। তাদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের কারনে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষন ও তার পিতা ইলিয়াস চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। নগরীর লবণচরা থানাধিন বুরো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩নং গলির ঢাকাইয়া হাউজ এ.পি ভিলা নামের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে নৃশংস এ খুনের ঘটনা ঘটে।  বাবা ও মেয়েকে হত্যার পর বাড়ির ভিতরে সেপটিক ট্যাংকির মধ্যে লাশ ফেলে দেয় খুনিরা। পরে তারা ওই ঘরের টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়।

এঘটনায় লবনচরা থানায় পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদি হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন। পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর আরও একটি মামলা দায়ের হয়। ২০১৬ সালের ৯মে হত্যাকা-ের ও একই বছরের ২৪মার্চ গণধর্ষনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো. কাজী বাবুল ৫জনকে অভিযুক্ত করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলায় বাদি পক্ষকে আইনী সহায়তা প্রদান করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী এ্যাড. মোমিনুল ইসলাম।

Related posts