মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

Select your Top Menu from wp menus

খুলনায় ডিসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাসহ সঙ্কটাপন্ন রোগীর জীবন বাঁচাতে খুলনার জেলা প্রশাসক ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চালু করছেন তিনি। ইতোমধ্যে দুটি উপজেলায় আইসিইউ স্থাপন এবং অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি মাসে আরও সাতটি উপজেলায় আইসিইউ স্থাপন করা হবে। এতে করোনা আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগী বা সঙ্কটাপন্ন রোগীর জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর মানুষের জন্য উদ্ভাবনী সিদ্ধান্ত নেয়ার নির্দেশকে ধারণ করে খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খুলনায় প্রথমবারের মতো উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি খুলনার রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের কাছে আইসিইউ ইউনিটটি হস্তান্তর করা হয়। আর দাকোপ হাসপাতালের ইউনিটে অক্সিজেন সরবরাহ অংশটি চালু করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই আরও সাতটি উপজেলায় আইসিইউ চালু করা যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট নির্মাণ হলেও প্রশিক্ষিত জনবল এবং চিকিৎসকের অভাব রয়েছে সেখানে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউনিটগুলো সচল রাখা হচ্ছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে গত ডিসেম্বর মাস থেকে এই কাজ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা, উপজেলা পরিষদ ও খুলনার স্থানীয় ব্যক্তিদের অর্থায়নে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আইসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তারা নির্মাণকাজ তদারকি করছেন।
ছোট উপজেলায় ১৫ শয্যার ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া বড় উপজেলায় ২০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটে ব্যয় হচ্ছে ৪৫ লাখ টাকা।
রূপসা ও দাকোপ উপজেলায় কাজ শেষ। পাইকগাছা উপজেলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যাংকের আউটলেটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এটি চালু হবে। পাইকগাছাসহ অন্যান্য উপজেলায় কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। ফুলতলা উপজেলায় ইউনিটে যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। খুলনার রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সংগীতা চৌধুরী জানান, আইসিইউ ইউনিটটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালের কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এখন রোগী ভর্তি করার সুযোগ রয়েছে।
খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের বাইরে স্থানীয়ভাবে এমন উদ্যোগ দেশের অন্য জেলাগুলোর জন্য অনুকরণীয় হবে। ইউনিটগুলো চালাতে এখন প্রশিক্ষিত জনবল এবং চিকিৎসক প্রয়োজন।
খুলনার জেলা প্রশাসক জানান, জনপ্রশাসন সচিব, খুলনার বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখেছেন। খুলনায় সফল হলে সারাদেশে এভাবে ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তারা অবগত করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ থাকলে শহরে মানুষের চাপ কমে যাবে।
উপজেলা পর্যায়ে এই ইউনিট নির্মাণে খুশি স্থানীয় মানুষ। খুলনার রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা সবুজ আলমগীর জানান, আগে গুরুতর অসুস্থ হলে খুলনা শহরে ছুটতে হতো। এখন এ উপজেলায় আইসিইউ চালু হওয়ায় সে ঝামেলা আর থাকবে না।

Related posts