বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২৪ মাঘ ১৪২৯

খুলনার ৬ হাসপাতাল ও ১৫ মার্কেট অগ্নিপ্রতিরোধ ঝুঁকিপূর্ণ

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনার ৬টি হাসপাতাল ও ১৫টি মার্কেট অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপন ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ খুলনার মেয়র ও কেডিএ’র চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। খুলনা নগরীর ৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় পানির আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার ট্যাংক নেই। ভৈরব ও রূপসা নদী থেকে ভাটার সময় পানি সংরক্ষণ করতে ফায়ার সার্ভিসকে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। গত বছর খুলনাঞ্চলে অগ্নিকান্ড ও নৌ দূর্ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, বেসরকারি পর্যায়ের গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ভৈরব নদ সংলগ্ন বড় বাজার, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, জলিল টাওয়ার, আকতার চেম্বার, নিউ-মার্কেট, চিত্রালী বাজার, দৌলতপুর বাজার, বৈকালী বাজার, বয়রা বাজার, নতুন বাজার, ফুলবাড়িগেট, সেভ এন সেফ, সোনাডাঙ্গা পাইকারী কাঁচা বাজার, খালিশপুর হাউজিং বাজার, আলমনগর বাজারের অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপন ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। অনাকাংক্ষিত ভাবে অগ্নিকান্ড ঘটলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বিধান থাকলেও মার্কেটগুলোতে রির্জাভার ট্যাংক নেই।
ফায়ার সার্ভিসের খুলনাস্থ উপ-পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন জানান, বড় বাজার, নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য বাজারগুলোতে অগ্নিপ্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। রূপসা ও ভৈরব নদে ভাটার সময় পাম্প স্থাপন করা যায় না। খুলনা নিউ-মার্কেট অগ্নি নির্বাপনে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহত করে কেডিএ’র চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাজার এলাকা ও শপিং কমপ্লেক্সগুলোর ঝুঁকির কথা খুলনার মেয়রকেও বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম জানান, জনসংখ্যা ও স্থাপনা বাড়লেও ফায়ার সার্ভিসের জনবল বাড়েনি। অগ্নিপ্রতিরোধ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খুলনার বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে অনুরূপ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২৫ জনের মৃত্যু ঃ ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানায়, গত বছর খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় ৪৫৬ টি অগ্নিকান্ড ঘটে। অগ্নিকান্ডে দু’জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়। ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ ভস্মীভূত হয়। ১১৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রক্ষা করা হয়। এ সময় খুলনা বিভাগের দশ জেলার বিভিন্ন নদীতে ২৫ টি নৌ দূর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৩ জনের প্রাণহানি হয়।

Related posts