রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২২ মাঘ ১৪২৯

খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে উৎপাদন বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার: বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকেরা খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার পর সোমবার (৬এপ্রিল) নোঙ্গরখানা খুলেছে শ্রমিকরা। দুপুরে প্লাটিনাম ও খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা নিজেরা চাঁদা তুলে মিল গেটের সামনে খাবার রান্না করে সকল শ্রমিককে খাওয়ান।
সোমবার স্ব স্ব মিল এলাকায় শ্রমিকেরা গেট মিটিং ও মিছিল করেছেন। আগামী ৮ মে ঢাকায় বৈঠক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চলের ৯ টি রাষ্টায়ত্ত পাটকলে শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বিকেল ৪ টা থেকে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানা গেছে।
শ্রমিকরা জানান, বকেয়া মজুরি না পাওয়ায় রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রথম স্টার জুট মিল, সন্ধ্যা ৬টায় প্ল¬াটিনাম জুট মিল, রাত ৮টায় ক্রিসেন্ট জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। একইভাবে এ রাতে আরও ৫টি এবং সকাল থেকে অপর জুট মিলটির উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিজেএমসি আওতাধীন খুলনা অঞ্চলে নগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে ক্রিসেন্ট, প¬াটিনাম, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল, দিঘলিয়া উপজেলায় স্টার, আটরা শিল্প এলাকায় আলীম ও ইষ্টার্ণ এবং যশোরের নওয়াপাড়ায় কার্পেটিং জুট মিল ও যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি (জেজেআই) অবস্থিত।
এ ব্যাপারে বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্টায়ত্ত পাটকলের সব কয়টির উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকেরা। তিনি বলেন, মিল ভেদে এই পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের ৮ থেকে ১১ সপ্তাহের এবং কর্মচারীদের তিন থেকে চার মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। কর্মবিরতির বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
সূত্র জানায়, খুলনা আঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে ১৩ হাজার ১৭০ জন স্থায়ী শ্রমিক এবং ১৭ হাজার ৪১৩ জন বদলী শ্রমিক রয়েছেন। মিলগুলোতে উৎপাদিত প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার পাট পণ্য অবিক্রি অবস্থায় রয়েছে। যথাসময়ে পাটপণ্য বিক্রি না হওয়ায় মিলগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে। ফলে সময়মতো মজুরি দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সার্বিক অবস্থা তিনি বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছেন। সেখান থেকে তাকে জানানো হয়েছে এখনও অর্থ সংস্থান হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার আগে বিষয়টি সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

Related posts