বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

‘খুবির সমাবর্তনে ২৪জন গ্রাজুয়েট চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক পাচ্ছেন’

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ২২ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে সোমবার (৯ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনের সিনেট কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য জানান,এবার সমাবর্তনে ৩৯৭৩জন কনভোকি অংশগ্রহণ করার জন্য রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ২৪জন গ্রাজুয়েটকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী এবং ইউজিসির চেয়ারম্যান বিশেষ অতিথি থাকবেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সমাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে এবং সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন সম্মানিত শিক্ষক কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলসহ কয়েকটি অনিয়ম বিষয়ে তুলে ধরে সম্প্রতি রেজিস্ট্রার বরাবর যে স্মারকলিপি দিয়েছেন সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ দেখেছেন এর মধ্যে অনেক বিষয়েই ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন।

কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনের একটি ফ্লোরের কয়েকটি কক্ষে নির্মাণ কাজের ত্রুটির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনসহ, টেকনিক্যাল কমিটি, দায়-দায়িত্ব নিরুপণ কমিটি গঠন করে। ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কুয়েটের সিআরটিএস এর তত্ত্বাবধানে রেট্রোফিটিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সব কাজের যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ টিমের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবনটি এখন ঝুঁকিমুক্ত।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে যা এখনও ব্যবহার উপযোগী হয়নি। সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করে যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। তবে চলমান নির্মাণ কাজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যাপারে যদি অসঙ্গতি, ইচ্ছাকৃত ত্রুটি, অনিয়মের অভিযোগ দৃষ্টিগোচর হয় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান যেহেতু দুদক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত দুটি ভবনসহ নির্মাণকাজের অনিয়ম, ত্রুটি ও দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখছে সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে পত্র দিয়ে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বাধা আছে কিনা তা জানতে চেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে রয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ দুদকের পত্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। খুব শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে তিনি উল্লেখ করেন প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত বিষয় অনুসরণ করতে গিয়ে অনেকটাই সময় চলে যায় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভুত সমস্যা নিরসনেও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়। আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তার রিপোর্ট পেতেও বিলম্ব হয়। এক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন কবি জীবনানন্দ দাশ ভবনের নির্মাণ ত্রুটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কাদের গাফিলতি রয়েছে সে ব্যাপারে একটি দায়-দায়িত্ব নিরুপণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রায় এক বছর যাবত তার কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। এটা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিত হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ প্রায় সকল ভবনেই বিদ্যুৎ কার্জে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালাম দুদকে চিঠি দিয়েছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন কাজও করছে। দুর্নীতি হয়ে থাকলে যারা এর সাথে যুক্ত তদন্তের মাধ্যমে তারা সবাই আইনের আওতায় আসবে বলে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করে কেউ পার পেয়ে যাবে-তা কোনভাবেই কাম্য নয়।

নির্মাণ কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য খুব ষ্পষ্ট ঃ ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ কাজের সাথে যে সকল প্রকৌশলী যুক্ত ছিলেন তারা দায়িত্বে অবহেলার জন্য আইনের আওতায় আসবেন। ত্রুটিপূর্ণ কাজ করার বিনিময়ে যদি কোন আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে তা অবশ্যই দুদক বিবেচনায় নেবে।

আসন্ন সমাবর্তনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার জন্য কোনো মহল সক্রিয় কি না- সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন তিনি সেটা বিশ্বাস করতে চান না। কেননা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীসহ সবাই মিলে সুনাম ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। সেটা ক্ষুণœ হোক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কারও তা কাম্য হতে পারে না।

উপাচার্য হিসেবে দ্বিতীয় টার্মে তাঁর নিয়োগের শেষ বছর উপনীত হওয়ায় কোনো অস্থিরতা তৈরি করে বা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে কি না -এমন অপর এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন এ পদের নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এখানে অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর  চেষ্টা থাকবে কেনো? ব্যক্তি হিসেবে উপাচার্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যত্যয় ঘটালে সে বিষয়ে জানার, আলোচনার সুযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উত্থাপনের যথাযথ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় এমন কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য কেউ প্রচার করবে এমনটা কারো প্রত্যাশিত নয়।

Related posts