শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

খুবিতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ২য় টার্মের ক্লাস শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় টার্মের ক্লাস অনলাইনে শুরু করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনলাইনে শুধুমাত্র তত্ত্বীয় ক্লাস শুরু হবে, পরীক্ষা বা সেশনাল করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বা পরবর্তীতে অবস্থা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে চলতি জুলাই থেকে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে যেসব ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) প্রথম টার্মের কোর্স (তত্ত্বীয়) কিছু অংশ এখনও বাকী আছে তা সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা নেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সহজভাবে অনলাইনে কোর্স রেজিস্ট্রেশন এবং যে সব ক্ষেত্রে থিসিস জমা হয়েছে সে সব ক্ষেত্রে অনলাইন ডিফেন্স গ্রহণের বিষয় নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। আপদকালীন করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে বিদ্যমান একাডেমিক অর্ডিনেন্সে কোনো ধারার পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরী সভা আহবান করে সেখানে উপস্থাপন করা হবে।
একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংক্রান্ত এমন আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রধানরা সভায় একমত হন। বর্তমান করোনা মহামারী পরিস্থিতে একাডেমিক কার্যক্রম অনেকটা সচল রেখে শিক্ষায় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জীবনের মূল্যবান সময় কাজে লাগানোর জন্য তাদেরকে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমে উৎসাহিত করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। আগ্রহী শিক্ষকদের বিনা সুদে ল্যাপটপ ক্রয়ে ঋণ সুবিধা ঘোষণার জন্য উপাচার্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে উদ্ভুত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষকবৃন্দ প্রস্তুত বলেও সভায় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করতে শিক্ষকদের জন্য স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের সভাপতিত্বে বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের সাথে প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে একাডেমিক কার্যক্রমের পরিপূরক হিসেবে ভার্স্যুয়াল ক্লাস চালুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা ও বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উপাচার্য সভার শুরুতে করোনা মহামারীতে এবং এ সময়ের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন বিশেষ করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হকের স্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার স্ত্রী, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানীসহ সকলের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আবদুল কাদির ভূঁইয়া, সিন্ডিকেটের প্রাক্তন সদস্য প্রফেসর মুহম্মদ কায়কোবাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. শামীম মাহবুবুল হকের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সভায় তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। যা শোক প্রস্তাব হিসেবে গৃহীত হয়।
উপাচার্য বলেন, বর্তমান করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে শিক্ষা সেক্টর স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা মানসিকভাবেও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। সরকার এবং ইউজিসি উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শীঘ্রই কিছু নির্দেশনা বা গাইড লাইন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্ব-প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ এখানে সবিশেষ গুরুত্ব রাখে। সে বিবেচনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস চালুর ব্যাপারে ইতোমধ্যে গত দুই মাস ধরে বিভিন্ন জরিপ ও সুবিধা অসুবিধা নিরুপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এসব বিষয়ে দুইটি কমিটি কাজ করছে এবং তাদের নিকট থেকেও বেশ কিছু তথ্য আসছে, সুপারিশ ও পাওয়া যাবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সুবিধা অসুবিধাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করছি। একই সাথে তারা যাতে অনলাইনে হলেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সেটাই আমাদের এখন মূখ্য চিন্তা। শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে সার্বিক সুবিধার দিক নিয়েও কাজ চলছে। ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধানবৃন্দ, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টবৃন্দ, সিইটিএল’র পরিচালক, আইকিউএসির পরিচালক, আইসিটিসেলের পরিচালক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)সহ সংশ্লিষ্ট মোট ৪০ জনের বেশি সংযুক্ত ছিলেন।

Related posts