মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ | ৩০ চৈত্র ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

খুবিতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার: যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার (২৬ মার্চ) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়।
এ উপলক্ষে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের সামনে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা কর্র্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে শোভাযাত্রা সহকারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য অদম্য বাংলায় উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপরই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, বিভিন্ন ডিসিপ্লিন, বিভিন্ন আবাসিক হল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনটিএ), খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদ, চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদ, ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠন এবং কর্মচারীবৃন্দের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
এ সময় ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এরপর সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১০টায় ওয়েবিনারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। তিনি বলেন, মার্চ মাস বাঙালি জাতির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাস আন্দোলন-সংগ্রামের মাস। এই মাস স্বাধীনতা অর্জনের মাস। এ মাসেই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঘুঁচিয়ে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নের সাথে সাথে এখন ইতিহাসের সত্যও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু, মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কেও আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একই সময়ে উদযাপিত হওয়ায় তা বিশেষ বৈশিষ্ট্যম-িত। সরকার এই সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ শিরোনামে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তারা ইতোমধ্যে এসব অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিয়েছেন। এ বিশেষ আয়োজনের জন্য তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং যে সকল রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এসব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তাদেরকেও তিনি শুভেচ্ছা জানান।
আরও বক্তৃতা করেন ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাত, অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিকুজ্জামান লিপন। সভা সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ এনামুল হক। ওয়েবিনারে এবং সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ও সংযুক্ত ছিলেন।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও প্রশাসন ভবন সংলগ্ন জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয়ের মেইনগেট থেকে হাদী চত্বরের রাস্তা পর্যন্ত, প্রশাসনিক ভবন ও অদম্য বাংলায় আলোকসজ্জা করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত ব্ল্যাক আউট (নিষ্প্রদীপ করণ) কর্মসূচি পালন করা হয়। রাত ৯টায় মুহূর্তেই নেভানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের সকল ভবন ও স্থাপনার সব আলো। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জ্বলন্ত মোমবাতি নিভিয়ে প্রতীকী ব্ল্যাক আউট পালন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন, ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন হলের সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, সকল সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

Related posts