বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

খুবিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি এখন দর্শনীয় হয়ে উঠেছে

স্টাফ রিপোর্টার: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালটি এখন শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষের জন্য দর্শনীয় হয়ে উঠেছে।

মুর‌্যালটি এতদাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা পর্যটনসহ অন্যান্য কাজে আসা মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই তা দেখতে আসছেন নানা বয়সের মানুষ। অনেকেই আসছেন সপরিবারে। মুর‌্যালটি নির্মাণের উদ্যোগ ও তার নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করছেন দর্শকরা। সেলফি না তুলে কেউ ফিরছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের পাশেই নির্মিত হওয়ায় তা খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যাতায়াতকারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর এই মুর‌্যালটি মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে প্রথম নির্মিত হয়েছে। গতবছর ২২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই মুর‌্যালটির উদ্বোধন করেন। বেদিসহ ৩৮ ফুট উঁচু ও ৪৩ ফুট বিস্তৃত ‘কালজয়ী মুজিব’ নামাঙ্কিত এই শিল্পকর্মটিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি, বিভিন্ন আকৃতির ৮টি স্তম্ভ ও ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ-উৎকীর্ণ একটি প্লেট এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য একটি মঞ্চ। মাঝখানে একই আকারের ৬টি স্তম্ভ রয়েছে। এ ৬টি স্তম্ভ বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ ৬ দফার প্রতীক। কালো রংয়ের স্তম্ভটি শোকাবহ ১৫ আগস্টের স্মারক। এ স্তম্ভের শীর্ষে উৎকীর্ণ শিল্পকর্মটির নাম আর নিচের অংশে রয়েছে উদ্বোধন ফলক।

লাল আভার স্তম্ভটি লম্বভাবে ওপরে উঠে অনুভূমিকভাবে সকল স্তম্ভকে বেষ্টন করে একটি কারাগারের প্রতিকৃতি হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ঘটনাবহুল সংগ্রামী জীবনে বার বার কারারুদ্ধ হবার বিষয়টিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটি প্রতীকী কারাগারের বাইরের অংশে স্থাপন করে বুঝানো হয়েছে, কারাগারের লৌহকপাট তাঁর সংগ্রামী চেতনাকে অবরুদ্ধ করতে পারেনি। জাতির পিতার প্রতিকৃতিটির পাশেই রয়েছে গ্রানাইট পাথরে উৎকীর্ণ ইউনেস্কো-স্বীকৃত বিশ্ব-ঐতিহ্যের অংশ, ‘বাঙালির অভূতপূর্ব জাগরণের বিশুদ্ধ সংগীত’ বঙ্গবন্ধুর ‘৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ’। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ-কালের পরিধি পেরিয়ে সকল শোষিত, বঞ্চিত, মুক্তিকামী মানুষের পথপ্রদর্শক। কালের গ-িকে জয় করে বঙ্গবন্ধু সকল দেশের, সকল কালের। এ শিল্পকর্মের তাই নাম দেওয়া হয়েছে ‘কালজয়ী মুজিব’।

গতবছর ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এই মুর‌্যালটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। তিনিই এই মুর‌্যালটি নির্মাণের পরিকল্পক। তাঁরই চিন্তাপ্রসূত এ মুর‌্যালটি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং অগ্রণী ব্যাংক। মুর‌্যালটি নির্মাণে এ পর্যন্ত পঞ্চাশ লাখ টাকারও কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে। এখনও আশপাশের কিছু সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাকি রয়েছে যা কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুর‌্যালটি নির্মাণ কাজ উদ্বোধনকালে উপাচার্য তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মুর‌্যালটি নির্মিত হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমিতে গড়ে উঠা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কালজয়ী মুজিব’ নামাঙ্কিত এ শিল্পকর্ম বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথার্থ সম্মান ও শ্রদ্ধার স্মারক হিসেবে অনাগতকাল ধরে শিক্ষার্থীসহ সবার মনন ও চেতনায় প্রেরণা যোগাবে। মুর‌্যালটির প্রতিরূপ বিনির্মাণ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল বাস্তবায়ন কমিটির তত্ত্ববধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ আনুসাঙ্গিক কাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। প্রায় ৩ মাসের পরিশ্রমে মুর‌্যালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

Related posts