রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২২ মাঘ ১৪২৯

খুবিতে কবিতা ও আবৃত্তি উৎসব অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বন্টন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৪মার্চ) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অমিত্রাক্ষর কবিতা ও আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। পরে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান সন্ধ্যায় এই উৎসব উপভোগ করেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মানেই কেবল ক্লাসে লেখাপড়া, পরীক্ষা দেওয়া আর সার্টিফিকেট গ্রহণ নয়। শিক্ষার্থীদের মনন গঠনে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে, সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জনে খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক কর্মাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে, সক্রিয় অংশগ্রহণ করলে তারা মাদক সেবন বা সন্ত্রাসের সাথে জড়িত হয় না। এবং সমাজ বা রাষ্ট্র বিরোধী কাজেও লিপ্ত হয়না। যারা শিল্পের সাথে জড়িত থাকে তারা শিল্পকে ধ্বংস করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবাদ চর্চা হলে তারা অযৌক্তিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে পারে না। তিনি বলেন, তাই আমরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক আবহ অবিরাম রাখতে চাই। সে প্রচেষ্টাই নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভবিষ্যতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় হবে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সূতিকাগার। তিনি এই কবিতা ও আবৃত্তি উৎসব আয়োজনের জন্য অমিত্রাক্ষরের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে এবং সুদূর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন শনন অংশগ্রহণ করায় তাদের এবং অন্যান্য জেলা ও বিভাগ থেকে যারা অংশ নিয়েছে তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বাচিক সংগঠন ‘অমিত্রাক্ষর’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিলো কবিদের ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও বাচিক শিল্পীদের বক্তব্য এবং দ্বিতীয় পর্বে আবৃত্তি পরিবেশনা। আবৃত্তি পরিবেশনায় খুলনা ও খুলনার বাইরের ১৮টি সংগঠন অংশ নেয়। এগুলো হচ্ছে ‘মেঘদুত’ খুলনা, ‘আবৃত্তিকুঞ্জ’ খুলনা, ‘আরাধনা’ সাতক্ষীরা, ‘শনন’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ‘আবৃত্তি ইশকুল’ খুলনা, ‘অ’, কুয়েট, ‘ধ্বণিতরঙ্গ’ খুলনা, ‘বায়ান্নো’ বিএল কলেজ, ‘উৎকর্ষ’ যশোর, ‘এবং আবৃত্তি’ খুলনা, ‘কিংবদন্তী’ খুলনা, ‘কন্ঠবিথী’ মাগুরা, ‘দ্রাবিড়’ খুলনা, ‘বাক’ খুলনা, ‘জাবিড়’ খুলনা, ‘স্বরবিন্যাস’ বাগেরহাট প্রভৃতি। এছাড়াও অমিত্রাক্ষরের নিজস্ব পরিবেশনাসহ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাচিক সংগঠন ওংকারশৃনুতা ও সঙ্গীত বিষয়ক সংগঠন ভৈরবী ও কৃষ্টির পরিবেশনা করে। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোকে অমিত্রাক্ষরের পক্ষ থেকে স্মারক সম্মাননা হিসেবে উত্তরীয় ও ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। এই আয়োজনে ও পরিবেশনায় নবীন-প্রবীন কবিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

Related posts