সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

কিউলেক্স মশার উপদ্রব

এসবিনিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গু রোগ রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়ানোর পর দুই সিটি করপোরেশন নড়েচড়ে বসলেও তা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মশক নিধন কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। এডিস মশার প্রাদুর্ভাব কমার পর শুকনো মৌসুমে দুই সিটিতে দেখা দিয়েছে কিউলেক্স মশার প্রাদুর্ভাব। আর সেই মশক নিধনে উত্তর সিটি করপোরেশন কর্মসূচি ঘোষণা করলেও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কোনো কর্মসূচি দিতে দেখা যায়নি। আর এখন থেকে সতর্ক না হলে ফের বড়ো কোনো ধরনের মশাবাহিত রোগ ছড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার জানান, কিউলেক্স মশার প্রাদুর্ভাব সাধারণত প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত থাকে। বর্তমানে দুই সিটিতে যেসব মশা দেখা যায় এর ৮০ থেকে ৯০ ভাগই কিউলেক্স মশা। এই মশার কামড়ের ফলে গোদ রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে গোদ ছড়ানোর আশঙ্কা কম। কারণ কিউলেক্স মশা প্রায় ১০ হাজার বার কামড়ালে এই রোগ হয়। এর সঙ্গে রোগীকে কৃমি রোগে আক্রান্ত হতে হবে। তবে এ বিষয়ে আরো গবেষণার দরকার রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের দেশে গবেষণা কম। আইসিডিডিআরবি এ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। এই মশার প্রাদুর্ভাব কমানোর বিষয়ে তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতেই এটি দমনে লার্ভি সাইড লিকুয়েড ছিটাতে হবে। যার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ৫৪০টি জায়গা শনাক্ত করে ৬২০টি হটস্পট নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। যেসব জায়গায় রয়েছে কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল। আর এটি কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১২ জন কীটতত্ত্ববিদের সমন্বয়ে পরিচালিত এক সমীক্ষায় ডিএনসিসি চিহ্নিত করে। আগামী রবিবার থেকে ডিএনসিসির সকল ওয়ার্ডে ১০ দিনব্যাপী কিউলেক্স মশার প্রজননস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশার লার্ভা ধ্বংস করা হবে জানিয়েছে ডিএনসিসি। তবে ডিএনসিসি এমন উদ্যোগ নিলেও ডিএসসিসির কোনো উদ্যোগ এখনো নিতে দেখা যায়নি। যদিও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। যা থেকে ছড়াতে পারে মশাবাহিত রোগ।

এ বছর দুই সিটিতে মশা নিধন কর্মসূচি হাতে নিয়ে বাড়ানো হয়েছিল বাজেটও। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বাজেটে মশা নিয়ন্ত্রণে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাত্ গত অর্থবছরের চেয়ে এবারে ৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবারের বাজেটে মশা নিয়ন্ত্রণ খাতে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।

কিউলেক্স মশার উপদ্রব সম্পর্কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শে মশক নিধনে এরই মধ্যে আমরা বেশকিছু আধুনিক (চতুর্থ প্রজন্মের) যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছি। আমরা ২০টি মিক্সড ব্লোয়ার যন্ত্র এনেছি যার সাহায্যে কাভার্ড ড্রেনগুলোর ভিতরে মশার ডিম ও লার্ভা নিধনে কীটনাশক (লার্ভিসাইড) সহজে কার্যকরভাবে স্প্রে করা যাবে। এছাড়া অল্প সময়ে অধিক এলাকায় পূর্ণাঙ্গ মশা মারার কীটনাশক (এডালটিসাইড) ছিটানোর জন্য দুটি ভেহিকেল মাউন্টেড ফগার মেশিন আমদানি করা হয়েছে। আরো তিনটি আমদানি করা হবে। এর ফলে মশক নিধন কার্যক্রমে ডিএনসিসির গতি বৃদ্ধি পাবে।

নগরবাসীকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, এডিস মশা বাসাবাড়ির আশেপাশে জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে, আর কিউলেক্স মশা বাড়ির সামনে ড্রেনে, ডোবা-নালায় ময়লা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই কিউলেক্স মশামুক্ত করতে হলে ডোবা-নালাগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম জানার জন্য একাধিকবার মেয়র সাঈদ খোকনকে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের মশা নিধনে কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কিছু কর্মসূচি চলছেও। এর বেশি কিছু বলতে পারব না আপনাকে।

Related posts