সোমবার, ২ আগস্ট ২০২১ | ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮

Select your Top Menu from wp menus

কাঁঠালের বীজের গুণাগুণ

এসবিনিউজ ডেস্ক: কাঁঠাল হলো বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফল এবং ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ুর রাজ্য ফল। এটি খুবই সুস্বাদু ও রসাল একটি ফল। অনেকেই এই ফলটি খেতে পসন্দ করে। কিন্তু এর বীজ খেতে চায় না। অথচ এর বীজটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থিয়ামিন এবং রাইবোফ্লেবিন, যা এনার্জির ঘাটতি দূর করে।
তাছাড়া কাঁঠালের বীজে বিদ্যমান জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম ত্বককে সুন্দর করে তোলে। একাধিক রোগকে দূরে রেখে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিম্নে কাঁঠালের বীজের গুণাগুণ উল্লেখ করা হলো-
প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয় : শরীরকে সচল এবং রোগমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় উপাদনগুলোর অন্যতম হ’ল প্রোটিন। কাঁঠালের বীজে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন মওজুদ থাকে, যা দেহের ভিতরে এই উপাদানটির ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় : অল্প সময়েই ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করতে নিয়মিত কাঁঠালের বীজ খাওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যমান ফাইবার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি ত্বকের ভিতরে জমে থাকা টক্সিক উপাদান বের করে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
সংক্রমণের আশঙ্কা কমায় : বর্ষাকালে নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে কাঁঠালের বীজ দারুনভাবে সাহায্য করে। এতে বিদ্যমান একাধিক অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এলিমেন্ট জীবাণু দূরে রাখার মাধ্যমে নানাবিধ ফুড-বন এবং ওয়াটার বন রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া হজমের সমস্যা কমাতেও কাঁঠালের বীজ দারুন কাজে আসে। ক্যান্সারের মতো মরণ রোগকে দূরে রাখে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কাঁঠালের বীজ খাওয়া শুরু করলে দেহের ভিতরে বেশ কিছু শক্তিশালী ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট্রসের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।
বলি রেখা কমায় : ত্বককে তরতাজা এবং সুন্দর রাখতে ব্যবহার করা যায় কাঁঠালের বীজ। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো বীজ নিয়ে প্রথমে গুঁড়ো করে নিতে হবে। তারপর এতে অল্প পরিমাণ দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্টটি প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য আরো বৃদ্ধি পায়।
অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে : কাঁঠালের বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা খুব অল্প দিনেই রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যা দূর করতে দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে। এই প্রাকৃতিক উপাদানটি অ্যানিমিয়া রোগের প্রকোপ কমাতে সক্ষম।
হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : কাঁঠালের বীজ রোদে শুকিয়ে তারপর সেগুলো বেটে গুঁড়ো করে এই গুঁড়ো পাউডারটি খেলে নিমিশেই বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা কমে যায়। এতে থাকা ডায়াটারি ফাইবার কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে।
স্ট্রেসের মাত্রা কমায় : কাঁঠালের বীজ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং অন্যান্য উপকারী মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস, যা মস্তিষ্কের ভিতরে কেমিকেল ব্যালেন্স ঠিক রাখার মাধ্যমে স্ট্রেস কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে : কাঁঠালের বীজে বিদ্যমান ভিটামিন এ, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি চোখ সম্পর্কিত একাধিক সমস্যাকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই কাঁঠালের বীজ খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন।

Related posts