মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

করোনা: মৃত্যুছঝুঁকিতে প্রবীণ-দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা

এসবিনিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস।  এই মহামারিতে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা।  করোনায় আক্রান্ত রোগী ও মৃত‌্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের বাড়তি সতর্কতার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আক্রান্তদের মধ্যে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই বয়স্ক।  পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিরাই বেশি মারা যাচ্ছেন।   মৃতদের মধ্যে ১২ শতাংশেরও বেশি আশি বছর বয়সী।  শিশু ও যুবকদের মৃত্যুর হার একেবারেই কম। ’

কোনও মৃত্যুই আমাদের জন্য কাম্য নয় উল্লেখ করে ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘যারা একটু বয়স্ক, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।  জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তাদের বাইরে বের না হওয়াই ভালো।  ঘর থেকে বাইরে বের হলে সেভাবেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।  আবার যখন বাসায় ফিরবে, তখন হাতমুখ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে ঘরে প্রবেশ করতে হবে।  এভাবে সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।’

শুক্রবার (১৩ মার্চ)  স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে  জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখেছি, ৩০ বছরের নিচে কারও মৃত্যু নেই।  চীনের ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছিলাম,  বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।’

যারা বয়স্ক, তাদের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে সেব্রিনা ফ্লোরা  বলেন, ‘যারা বেশি বয়স্ক ও যারা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন, তাদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলবো।’

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘চীনে এখন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে।  রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই কমে আসছে।  পাশাপাশি চীনের বাইরে বেশকিছু দেশে রোগী বাড়ছে। চীনের বাইরে এখন আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ১১৭টি।  ’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি কিছুটা বিশ্লেষণ করে থাকি। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইতালির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি।  দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আগেও বলেছিলাম, আমরা দেখতে পেয়েছি যারা ছোট, যাদের বয়স কম তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের সংক্রামণ কিন্তু অনেক কম।  টোটাল রোগীর যে বিশ্লেষণটা আমাদের কাছে আছে, সেখানে ৭ হাজার ৮৬৯ জন রোগীর ভিত্তিতে দেখা যায়, শূন্য থেকে নয় বয়সীদের মধ‌্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের এক ভাগ এই বয়সের।  শতকরা ৫ ভাগের মতো হচ্ছে ১০ থেকে ২০ বছর বয়সের।  এরপরে কিছু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা একটি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।  এটা প্রয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে এটি পাঠিয়েছি।  ’

উল্লেখ‌্য, চীন থেকে সংক্রমিত হওয়া নতুন করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট ‘কোভিড-১৯’ রোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে।  ওয়ার্ল্ডওমিটার্সের তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।  তাদের মধ্যে ৭০ হাজার ৩৮৫ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন।

Related posts