বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ❙ ২৪ মাঘ ১৪২৯

করোনার বিরুদ্ধে বাঙালি জমিদার পুত্রের ‘মহাঅস্ত্র’!

এসবিনিউজ ডেস্ক: করোনার কবলে পড়ে মানবসভ্যতার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এ ভাইরাসের বিস্তার কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। যারা ফলে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। 

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই এ ভাইরাসের কবলে পড়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১৭ লাখের বেশি মানুষ। মারা গেছেন এক লাখের বেশি। 

করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আমেরিকা। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই রাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৫ লাখের অধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ।

চিকিৎসা শাস্ত্রে উন্নত কোনো দেশই এ পর্যন্ত এই ভাইরাস প্রতিরোধে কোনো ওষুধ উদ্ভাবন করতে পারেনি। ফলে এই ভাইরাস মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। এ অবস্থায় আলোর পথ দেখাচ্ছে একটি ওষুধ। আর সে ওষুধের নাম ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন’। যদিও এটা করোনা ভাইরাসের ওষুধ নয়। তবুও এ ওষুধে নাকি কাজ হচ্ছে।

এই ওষুধ তৈরির পেছনে যে মানুষটির অবদান আছে তিনি হলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। প্রখ্যাত এই বাঙালি একাধারে ছিলেন রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক ও কবি। তিনি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর সহকর্মী ছিলেন। 

প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্ম বাংলাদেশের খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাডুলি গ্রামে ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট। তিনি ছিলেন ভুবনমোহিনী দেবী এবং হরিশচন্দ্র রায়ের পুত্র। হরিশচন্দ্র রায় ছিলেন স্থানীয় জমিদার। 

প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৯৫ সালে মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO2) আবিষ্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনি ভারতের বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা। দেশি শিল্পায়ন উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি।

করোনা তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে ভারতের কাছ থেকে সেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমদানি করছে আমেরিকা। এটি না দিতে চাওয়ায় এক রকম হুমকিও দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরবরাহ করা হয় এই ওষুধ।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন তৈরির ব্যাপক ক্ষমতা আছে একমাত্র বেঙ্গল কেমিক্যালসের। 

গোটা বিশ্বে এখন মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘কোভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য বিশ্বে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-এর কদর বেড়েছে। আমি গর্বিত যে, এর পিছনে বাংলার এক মানুষের অবদান রয়েছে।’

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন উৎপাদনে পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে বিষয়টি দেখতে বলেছিলেন। শেষপর্যন্ত বেঙ্গল কেমিক্যালসকে ওষুধ তৈরির  নির্দেশ দেন তিনি। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের নামাঙ্কিত স্ট্যাম্পের ছবিসহ টুইট করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

জানা গেছে, এই ওষুধ বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশকে দিতে ব্যাপক উৎপাদন শুরু করেছে ভারত। 

Related posts