মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

‘করোনার আগেই হয়তো না খেয়ে মারা যাব’

এসবিনিউজ ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে ভারতে লকডাউন শুরু হওয়ায় সেখানকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর যারা কোনোরকম খেটে খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের ওপর এর খুবই খারাপ প্রভাব পড়েছে। বিবিসির সাংবাদিক বিকাশ পান্ডে দেশটিতে এই অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে কীভাবে খেটে খাওয়া এসব দিনমজুর তাদের সংসার চালাবেন তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন।

অনুসন্ধানে তিনি দেখেছেন, করোনার চেয়েও দেশটিতে না খেয়ে মরার ভয় বেশি। তিনি খবর নিয়েছেন রাজধানী দিল্লির শহরতলী অঞ্চল নয়ডার লেবার চক কাজের খোঁজে থাকা নির্মাণ শ্রমিকদের। ভবন নির্মাতারা এই জায়গায় এসে শ্রমিক ভাড়া করে নিয়ে যান। কিন্তু জনতা কারফিউ চলাকালে রবিবার সকালে তিনি যখন ঐ এলাকায় আসেন তখন এলাকাটি ফাঁকা, পুরোপুরি শান্ত, চুপচাপ। এদিক ওদিক তাকিয়ে এক কোণে কয়েকজন লোককে দেখতে পান তিনি।

সেখানে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বানডা জেলা থেকে কাজের খোঁজে আসা রমেশ কুমার জানান, তাদের ভাড়া নেওয়ার জন্য এখানে কেউ নাও আসতে পারেন এটা জানেন তিনি, কিন্তু তারপরও কোনো কাজ পাওয়া যায় কিনা দেখতে এসেছেন। রমেশ বলেন, ‘প্রতিদিন আমি ৬০০ রুপি কামাই করি। ঘরে খাওয়ার লোক পাঁচ জন। কয়েকদিনের মধ্যেই ঘরে যে খাবার আছে শেষ হয়ে যাবে। করোনা ভাইরাসের ভয় আমারও আছে, কিন্তু আমার সন্তানরা না খেয়ে আছে, এটি সহ্য করতে পারব না আমি।’

আলী হাসান নামে অপর একজন জানান, ‘দুই দিন আগে দোকান বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু আমি টাকা পাই নাই। কবে দোকান খুলবে জানি না। আমি খুব ভয়ে আছি। এভাবে চলতে থাকলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।’

ভারতজুড়ে কোটি কোটি দিন মজুরের এই একই অবস্থা। তিন সপ্তাহ লকডাউন চলার সময় তাদের আয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ রকম অনেক পরিবারের মজুত খাবার শেষ হয়ে যেতে পারে। বুধবার নাগাদ ভারতে করোনা ভাইরাস রোগীর সংখ্যা ৫০০ জনেরও বেশি এবং মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের, এমনটিই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উত্তর প্রদেশ, কেরালা ও রাজধানী দিল্লিসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার রমেশের মতো শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেন্দ্রের মোদি সরকারও লকডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দৈনিক মজুরি নির্ভর লোকজনকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এসব অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা সঠিক লোকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জটিলতা আছে।

Related posts