বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১ কার্তিক ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

কথা রাখলেন তালার ইউএনও: হাসপাতালে পৌঁছেছে ১২ টি এসি

সেলিম হায়দার: সাতক্ষীলার তালা ‘হাপাতালের অসুস্থ রোগীদের এসি’র ব্যবস্থা না করে নিজের কক্ষে এসি চালাবেন না’। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গরমে দূর্বিসহ দূর্ভোগের চিত্র দেখে,তাদের কষ্ট উপলব্ধি করে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেনের ফেইসবুক আইডিতে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টায় দেয়া এক স্ট্যাটাসের পর এবার সত্যিই তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযোজন হচ্ছে এসি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিতে এক সাথে সংযোজন হচ্ছে ১২ টি এসি।

এদিকে গত প্রায় দু’মাসে ইউএনও ইকবাল হোসেনের তালায় পোস্টিং নেয়ার পর থেকে তার নানা কর্মতৎপরতার বিষয়গুলি নজর আসে এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের। বিভিন্ন সময় তার কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। সর্বশেষ তার স্থানীয় হাসপাতালটির অপারেশনের রোগীদের গরমে দূর্ভোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি নাড়া দেয় তালাবাসীকে।

শুধু স্ট্যাটাসের মধ্যে নিজেকে সম্পৃক্ত না রেখে এবার সত্যিই যেন অসাধ্যকে সাধন করে দেখাতে যাচ্ছেন ইউএনও ইকবাল হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) খুলনা থেকে তালায় আনা হয় ১২ টি এসি। এ সময় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মীর আবু মাউদ, তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, তালা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাজীব সরদার, সিঙ্গার কোম্পানীর সেল্স ম্যানেজার কাজী হেদায়েতুল্লাহসহ স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম হায়দার প্রমুখ। তবে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন জরুরী মিটিং থাকায় বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এগুলো দ্রুত তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযোজিত হবে বলে জানা গেছে। যা তালার ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দেওয়া হৃদয়গ্রাহী স্ট্যটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:

‘নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। এসি রুমের মধ্যে থাকতে ভালো লাগছেনা। ফ্যাক্ট: হাসপাতালে অপারেশনের রোগী গরমের সাথে লড়ছে। রাতের তালা আমাকে বদলে দাও। কাল থেকে নিজের রুমের এসি বন্ধ থাকবে। রোগীদের ব্যবস্থা না করে ব্যবহার করবোনা। দয়া করে রুমে ঢুকে কেউ এ সি চালাতে বলবেন না। হাসপাতালের এসি হতেই হবে। এসি হবেই। কোনও ধূলো থাকবেনা। জুতো বাইরে থাকবে। আর বাথরুম থেকে গন্ধ নয় ঘ্রান আসুক।’

এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে সাধারণ মানুষ ভালো থাকতে পাওে না আমি কিভাবে ভালো থাকবো? আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, বর্তমান তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ অপারেশনের রোগিরা কি কষ্ট ভোগ করছে। তাই আমি রোগীদের আয়েশের ব্যবস্থা না করে নিজে আয়েশ করবো না। সেটা আমার পক্ষে সম্ভবও না। ”

Related posts