মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ | ৩০ চৈত্র ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

ওই পশুদের সাথে আমরা এক কাতারে থাকতে পারি না : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

এসবিনিউজ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, সরাষ্ট্র মন্ত্রালয় থেকে আমরা যে তালিকা পেয়েছি। সেটি না দেখেই প্রকাশ করেছি। এটিই ছিল আমার ভুল। এজন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। প্রতিটি উপজেলায় যদি মুক্তিযোদ্ধাদের কমিটি থাকতো। তাহলে এই ভুল হতো না। প্রকাশ করা তালিকায় ভুল থাকায় তা স্থগিত করা হয়েছে। অচিরেই সংষোধন করে তা প্রকাশ করা হবে। ওরা ঘৃণীত, ওরা জানোয়ার, নরপশু। ওই পশুদের সাথে আমরা এক কাতারে থাকতে পারি না।

শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভবন উদ্ধোধন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা নিয়ে আর রাজাকার-আলবদর ও আলশামসের তালিকা প্রকাশ করা হবে না। নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে উপজেলা ভিত্তিক রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হবে। জানুয়ারি মাসে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে তালিকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সেই তালিকা আবার যাচাই করার কাজ চলছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারিভাবে পরিচয়পত্র দেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চের মধ্যেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ছবিসহ পরিচয়পত্র দেয়া হবে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান রাজাকার, আলবদর ও আল শামসদের পিচ কমিটির নেতাদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। আর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিদেশি দূতাবাসে বিভিন্ন বড় বড় পদে পদায়ন করেছিলেন। আমি শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে। কিন্তু যখন দেখি একজন খ্যতিমান বীর গোলাম আযমের সাথে হাত মিলিয়ে এক মঞ্চে বসে একত্রে শেখ হাসিনার সরকারকে পতন ঘটানোর জন্য একত্রে সভা করেন। তখন আর শ্রদ্ধা জানাতে পারি না। আমার আরেক বন্ধু শাজাহান সিরাজ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ৩ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন তিনি নাকি জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। আমার দুঃখ হয় তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখিয়ে এ ছবি এখানে কেন। বর্ণচোরা শাজাহান সিরাজরা ’৭৫ এ গিয়ে রুপ পাল্টে গিয়ে বলেন জিয়াউর রহমানের ডাকে নাকি যুদ্ধ করেছে।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বি.কম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা নিপাসহ মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

Related posts